দরকারি ১০ দক্ষতা
মানুষের
দক্ষতা সাধারণত দুই ধরনের হতে পারে। কারিগরি ও মানবিক। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে
পড়াশোনার মাধ্যমে কারিগরি দক্ষতার নানান বিষয় ও প্রয়োগ সম্পর্কে জানতে
পারি। এর বাইরে বেশ কিছু দক্ষতা আছে, যা নিজে থেকেই আয়ত্ত করতে হয়। সারা
পৃথিবীতেই চাকরির ক্ষেত্রে বা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ‘সফট স্কিল’ গড়ে তোলার
ব্যাপারে জোর দেওয়া হচ্ছে, সফট স্কিল বলতে সাধারণত এই মানবিক দক্ষতাগুলোকেই
বোঝানো হয়। কারিগরি দিক দিয়ে আপনি যতই দক্ষ হন না কেন, মানবিক দক্ষতা না
থাকলে ক্যারিয়ারে সফল হওয়া কঠিন। ১০টি প্রয়োজনীয় মানবিক দক্ষতার কথা বলেছেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) ম্যানেজমেন্ট
কনসালটেন্সি প্রোগ্রামের চেয়ারপারসন, বিজনেস কমিউনিকেশন পরামর্শক ও সহকারী
অধ্যাপক সাইফ নোমান খান
যেকোনো ক্যারিয়ারেই নেতৃত্ব দেওয়ার গুণ থাকা এখন বিশেষ যোগ্যতা। আপনি ম্যানেজার হতে চান কিংবা দক্ষ কর্মী, আপনার মধ্যে নেতৃত্বের সব গুণ থাকতে হবে। দল গঠনের সক্ষমতা, নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি করা, পরামর্শ দেওয়া-নেওয়া, সংঘাত নিরসনের কৌশল জানা, কূটনীতি, মতামত দেওয়া ও নেওয়া, তত্ত্বাবধান করাসহ দূর থেকেই দলকে নিয়ন্ত্রণ করার দক্ষতা আয়ত্ত করতে হবে। টম র্যাথের স্ট্রেন্থস ফাইন্ডার ২.০ বইটি পড়ে জানতে পারবেন, কোন ধরনের নেতৃত্বের গুণাবলি আপনার মধ্যে আছে। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে বিভিন্ন বিজনেস কেস কম্পিটিশন, হ্যাকাথন আরও নানা ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে নিজের নেতৃত্ব বিকাশের সক্ষমতা অর্জন করতে পারেন। সংগঠনে কাজের মধ্য দিয়েও নেতৃত্বের গুণ বিকাশ করা যায়।
পেশাগত দক্ষতা বলতে প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা, পরিকল্পনা করা, মিটিং পরিকল্পনা, প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহ, পৃথিবীর অন্যান্য দেশগুলোর কোথায় কী হচ্ছে, গবেষণা করার আগ্রহ, ব্যবসায় রীতিনীতি সম্পর্কে জানা, প্রশিক্ষণ নেওয়া ও দেওয়া এবং গ্রাহকসেবার নানা দিক সম্পর্কে জানা—এসবই বোঝায়। পেশাগত দক্ষতাগুলো সম্পর্কে জানা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শেষে কর্মজীবনে পা রাখলে ভয় কিংবা জড়তা তেমন থাকে না। চার্লস দুহিগের দ্য পাওয়ার অব হ্যাবিট: হোয়াই উই ডু হোয়াট উই ডু ইন লাইফ অ্যান্ড বিজনেস বইটি পড়লে জড়তা কাটানোর বিভিন্ন উপায় সম্পর্কে জানা যাবে।
নিজেকে অন্যের সামনে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করাও একটি দক্ষতা। এমন নয় যে আপনি যা নন, তা অন্যের সামনে দেখাতে হবে। বরং আপনার শক্তির জায়গাগুলোকে কাজে লাগিয়েই নিজেকে সুন্দর করে উপস্থাপন করা শিখতে হবে। অন্যের সামনে নিজের ‘ব্র্যান্ডিং’ করতে হবে।
৭. সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনজীবনে আপনি কতটা সফল হবেন, তা নির্ভর করে আপনার সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী দক্ষতার ওপর। সৃজনশীলতার সঙ্গে নিজের বুদ্ধিমত্তার নান্দনিকতার সম্পর্ক যুক্ত। উদ্ভাবনী দক্ষতা বিকাশের জন্য আপনি অভিজ্ঞ কোনো মানুষের সঙ্গে কাজ করতে পারেন। যে ভাবনাগুলো আপনাকে আলোড়িত করছে, সেগুলো শুধু মাথার ভেতর না রেখে প্রয়োগ করে দেখতে পারেন। তাহলেই আপনার শক্তি ও দুর্বলতাগুলো জানতে পারবেন।
আমরা সমস্যা নিয়ে ভাবতে পছন্দ করি। সমস্যা নিয়ে ভাবতে ভাবতে সমাধান নিয়ে ভাবনার সুযোগই পাই না। বিশ্ববিদ্যালয়জীবন থেকেই সমস্যা সমাধানের বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে জানতে হবে। সমস্যা সমাধানের জন্য গণিত ও যুক্তির বিভিন্ন কৌশল আয়ত্ত করতে হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে আবেগের চেয়ে যুক্তি ও বাস্তবতার দিকে খেয়াল রাখতে শিখতে হবে।
Comments
Post a Comment