খাবার কি মন–মেজাজ খারাপ করে?
চিনি: যখন কোনো কারণে রক্তে শর্করা কমে
যায়, মানে চিনির স্তর নিচের দিকে নেমে আসে, তখন আমাদের মেজাজ গরম হয়ে যেতে
পারে। রাগ হতে পারে। আমরা খিটখিটে আচরণ করতে পারি। খিদে লাগলে অনেক শিশু
চিৎকার–চেঁচামেচি জুড়ে দেয়। অনেকে মারামারি করে। আবার আকস্মিক এক গাদা
চিনিযুক্ত খাবার খেয়ে ফেললে সঙ্গে সঙ্গেই শরীরে অনেকখানি ইনসুলিন উৎপন্ন
হয়। এই চিনি শোষণ ও ব্যবহার হয়ে যায় সহজেই। কিন্তু ইনসুলিনের প্রভাবে খিদে
অনুভূতি, মেজাজ খারাপ লাগা, আবেগ, ক্রোধ বেশি হওয়া চলতেই থাকে। এ জন্য
শর্করা খেতে হবে এমন, যা দ্রুত রক্তে চিনি বাড়ায় না। চিনিযুক্ত পানীয়, কোমল
পানীয়, জুস, মিষ্টি খাবারের পর অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরি হয় এবং পরে সমস্যা
হয়। আবার শস্যজাতীয় খাবার থেকে শর্করা আহরণ করলে তা সহজে চিনি বাড়ায় না,
ধীরে রক্তেমেশে ও ধীরে ইনসুলিন উৎপাদন করে।
ওমেগা ৩: ওমেগা ৩ চর্বিযুক্ত খাবার
মন–মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে ও উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। মস্তিষ্কের কিছু
নিউরোট্রান্সমিটারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এটি। ওমেগা ৩ আছে সামুদ্রিক
মাছ, বাদাম ইত্যাদিতে।
ভিটামিন: ভিটামিন বি যুক্ত খাবার রক্তে
সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়ায়। আর সেরোটোনিনের মাত্রা কমে গেলে বিষণ্নতা বা
ডিপ্রেশনে পেয়ে বসে। তাই বলা হচ্ছে, বিষণ্নতা কমাতে সাহায্য করতে পারে এই
ভিটামিন বি।
প্রোবায়োটিক: কিছু খাবার অন্ত্রে উপকারী
ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করে। এদের বলে প্রোবায়োটিক। অন্ত্রে উপকারী
ব্যাকটেরিয়া মস্তিষ্কে বিষণ্নতা সৃষ্টিকারী রাসায়নিককে নিয়ন্ত্রণ করতে
পারে। টক দই একটি ভালো প্রোবায়োটিক।
ডা. মৌসুমী মরিয়ম সুলতানা
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
ডা. মৌসুমী মরিয়ম সুলতানা
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
Comments
Post a Comment