জীবনযাপন -- আমার ডাক্তার

 

Health: Most important link-http://www.ntvbd.com/health 

ধূমপান ছাড়তে দারুচিনি!

৩১ মে ২০১৬, ১৫:২৬
ধূমপান কমাতে দারুচিনি খান। ছবি : সংগৃহীত
তামাক গ্রহণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর, এ কথা সবারই জানা। শরীরের এমন কোনো অংশ নেই যেখানে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে না। ধূমপান ছেড়ে দিতে চাইলেও অনেকে ছাড়তে পারেন না। এটি নেশায় পরিণত হয়ে যায়।
তবে কিছু ভেষজ রয়েছে যেগুলো ধূমপান ছাড়তে বা তামাক ছাড়তে সাহায্য করতে পারে আপনাকে। জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাইয়ের স্বাস্থ্য বিভাগে জানানো হয়েছে এ রকম কিছু ভেষজের কথা।
দারুচিনি
দারুচিনি ধূমপানের আসক্তি থেকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করে। যখন ধূমপান বা অন্যান্য তামাক গ্রহণের নেশা জাগে, এক টুকরো দারুচিনি নিন। একে চিবাতে শুরু করুন। এটা ধূমপানে বিরত রাখতে সাহায্য করবে।
ত্রিফলা
ত্রিফলা শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করার জন্য পরিচিত। এটি ধূমপান ছাড়তে সাহায্য করে। প্রতিদিন রাতে এক টেবিল চামচ ত্রিফলা খাওয়া ধূমপান কমাতে উপকারী।
পুদিনা পাতা
পুদিনা পাতা চিবানোও তামাক গ্রহণ কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন সকালে ও রাতে দুই থেকে তিনটি পুদিনা পাতা চিবান।
আদা, আমলকী, হলুদ
আদা, আমলকী ও হলুদ একত্রে মিশিয়ে ছোট ছোট বল তৈরি করে খেতে পারেন। এক মাস এটি খাওয়া তামাক গ্রহণের প্রতি আগ্রহ কমাতে কাজ করবে।
অশ্বগন্ধা
অশ্বগন্ধা শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে বেশ কার্যকর। এটি উদ্বেগ দূর করতে সাহায্য করে এবং তামাকের প্রতি আসক্তি কমায়। ৪৫০ মিলিগ্রাম থেকে ২ গ্রাম অশ্বগন্ধার শেকড়ের গুঁড়ো খাওয়া ভালো ফলাফল দেবে।

 

ভালো থাকুন


ভালো ঘুমের জন্য খাবার


প্রিন্ট সংস্করণ

অনেকেই অনিদ্রা বা ইনসমনিয়ায় ভোগেন। কারও ঘুম আসতে দেরি হয়, কারও ঘুম রাতে ভেঙে যায়। তাঁদের জন্য রাত একধরনের বিভীষিকা। ইনসমনিয়ার সমস্যায় আজকাল ওষুধ নয়, আচরণগত পরিবর্তন ও কগনিটিভি বিহেভিয়র থেরাপির কথা বেশি বলা হচ্ছে। এই আচরণগত পরিবর্তনের মধ্যে খাদ্যাভ্যাসের কিছু পরিবর্তনও জরুরি।

কিছু খাবার অনিদ্রার রোগীদের না খাওয়াই উত্তম। এগুলো কিছু রাসায়নিক তৈরি করে, যা মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে ঘুম দূর করে। যেমন: অতিরিক্ত চিনিযুক্ত বা মিষ্টি খাবার, লবণযুক্ত খাবার, চকলেট, কোমল পানীয়, কৃত্রিম রংযুক্ত খাবার, সংরক্ষিত খাবার ইত্যাদি। এ ছাড়া চা, কফি বেশি খাওয়া উচিত নয়। বেশি দেরি করে খাওয়াও ভালো নয়। ঘুমের অন্তত তিন ঘণ্টা আগে খাওয়া শেষ করবেন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে কোনো উত্তেজক পানীয় পান না করাই ভালো। তবে দুধ খাওয়া ভালো। শোয়ার আগে এক চামচ মধুযুক্ত এক কাপ দুধ প্রশান্তি আনে। এর সঙ্গে চারটা বাদামও খেতে পারেন।

ক্যালসিয়াম, ট্রিপটোফ্যান, ম্যাগনেশিয়ামযুক্ত খাবার ঘুমের জন্য ভালো। তাই দুধ, দুগ্ধজাত খাবার, ডাল, বাদাম, পনির, ডিম, সূর্যমুখীর বীজ, ডুমুর, খেজুর, কিশমিশ ইত্যাদি নিয়মিত খান। ভিটামিন বি কমপ্লেক্স, ভিটামিন ডি যেন পর্যাপ্ত থাকে।

পেটে গ্যাস বা বদহজম হলেও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। তাই রাতের খাবার বেশি ভারী না হওয়াই ভালো।
আখতারুন নাহার, পুষ্টিবিদ

ভালো থাকুন


বাড়িতে রক্তচাপ মাপেন?

ডা. শরদিন্দু শেখর রায়


প্রিন্ট সংস্করণ






শুধু রক্তচাপ মাপার জন্য চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার কোনো মানে হয় না। হোম মনিটরিং বা বাড়িতে রক্তচাপ মাপার অভ্যাসকে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন উৎসাহিতই করছে। এতে অনেক না জানা উচ্চ রক্তচাপের রোগীর রক্তচাপ ধরা পড়ে। তা ছাড়া যাঁরা রক্তচাপের ওষুধ খান, অন্তঃসত্ত্বা নারী ও যাঁদের রক্তচাপ ওঠানামা করে, তাঁদের জন্য এই তদারকি বেশ উপকার বয়ে আনে। আসুন, জেনে নিই কীভাবে সঠিক পদ্ধতিতে রক্তচাপ পরিমাপ করা যায়।
* রক্তচাপ মাপতে মনিটরযুক্ত যন্ত্রের চেয়ে সাধারণ স্ফিগনোম্যানোমিটারই ভালো। মনিটরযুক্ত যন্ত্র হলে ভালো কোম্পানির নিখুঁত যন্ত্র নিন। বছরে একবার যন্ত্রটি পরীক্ষা করিয়ে নেবেন।
*চা-কফি পান করার পর, ব্যায়ামের পর, খাদ্যগ্রহণ বা ধূমপান করার পর বা খুব অস্থিরতার সময় রক্তচাপ না মাপাই ভালো।
*একই সময়ে রক্তচাপ দেখা ভালো, বিশেষ করে যদি রক্তচাপের ওঠানামার সমস্যা থাকে। যেমন: সকাল ১০টা ও রাত ৮টা—এমন দুটো সময় ঠিক করে নিলেন।
*রক্তচাপ মাপার আগে শান্ত হয়ে ৫-১০ মিনিট বসুন। ঢিলে হাতের বা হাফ হাতা জামা পরুন। হাতটি টেবিলের ওপর বিছিয়ে দিন এমনভাবে যেন তা হার্টের লেভেলে থাকে। কাফটা ঠিক করে বাঁধতে হবে। বেশি ঢিলে বা টাইট হবে না। শিশু ও বেশি স্থূল ব্যক্তিদের জন্য আলাদা কাফ লাগে। স্টেথোস্কোপের ডায়াফ্রামটা ঠিক জায়গায় বসাতে হবে।
*অস্বাভাবিক রক্তচাপ পাওয়া গেলে আধ ঘণ্টা পর আবার মাপুন। অস্থির বা উদ্বিগ্ন হবেন না। সিস্টোলিক ১৮০ ও ডায়াস্টোলিক ১২০-এর ওপর আবারও পেলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন বা হাসপাতালে যান। এ ছাড়া রক্তচাপ একটু কম-বেশি হলেও নিজে নিজে ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন করবেন না বা ওষুধ বন্ধ করে দেবেন না।
*প্রতিদিন বা বারবার রক্তচাপ মাপার দরকার নেই। এতে অযথা উদ্বেগ বাড়বে। মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, ঝাপসা দেখা, দম আটকে আসা ইত্যাদি সমস্যা হলে দেখতে পারেন। কোনো ওষুধ নতুন শুরু করার বা পরিবর্তন করার পরের দুই সপ্তাহে কয়েকবার মাপা উচিত। 
ডা. শরদিন্দু শেখর রায়

ভালো থাকুন


খাবার কি মন–মেজাজ খারাপ করে?


প্রিন্ট সংস্করণ


কিছু খাবার রাগ বাড়িয়ে দিতে পারে। আর কিছু খাবার মন শান্ত করে। ছবি: প্রথম আলোকিছু খাবার রাগ বাড়িয়ে দিতে পারে। আর কিছু খাবার মন শান্ত করে। ছবি: প্রথম আলোখাবারের সঙ্গে মন–মেজাজ বা মুড ওঠানামার কোনো সম্পর্ক আছে কি? কিছু খাবার আপনার মেজাজ বা রাগ, আবেগ বাড়িয়ে দিতে পারে। আবার কিছু খাবার আছে যা আপনাকে শান্ত করে। আসুন, দেখি এগুলো কী?
চিনি: যখন কোনো কারণে রক্তে শর্করা কমে যায়, মানে চিনির স্তর নিচের দিকে নেমে আসে, তখন আমাদের মেজাজ গরম হয়ে যেতে পারে। রাগ হতে পারে। আমরা খিটখিটে আচরণ করতে পারি। খিদে লাগলে অনেক শিশু চিৎকার–চেঁচামেচি জুড়ে দেয়। অনেকে মারামারি করে। আবার আকস্মিক এক গাদা চিনিযুক্ত খাবার খেয়ে ফেললে সঙ্গে সঙ্গেই শরীরে অনেকখানি ইনসুলিন উৎপন্ন হয়। এই চিনি শোষণ ও ব্যবহার হয়ে যায় সহজেই। কিন্তু ইনসুলিনের প্রভাবে খিদে অনুভূতি, মেজাজ খারাপ লাগা, আবেগ, ক্রোধ বেশি হওয়া চলতেই থাকে। এ জন্য শর্করা খেতে হবে এমন, যা দ্রুত রক্তে চিনি বাড়ায় না। চিনিযুক্ত পানীয়, কোমল পানীয়, জুস, মিষ্টি খাবারের পর অতিরিক্ত ইনসুলিন তৈরি হয় এবং পরে সমস্যা হয়। আবার শস্যজাতীয় খাবার থেকে শর্করা আহরণ করলে তা সহজে চিনি বাড়ায় না, ধীরে রক্তেমেশে ও ধীরে ইনসুলিন উৎপাদন করে।
ওমেগা ৩: ওমেগা ৩ চর্বিযুক্ত খাবার মন–মেজাজ নিয়ন্ত্রণ করতে ও উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। মস্তিষ্কের কিছু নিউরোট্রান্সমিটারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে এটি। ওমেগা ৩ আছে সামুদ্রিক মাছ, বাদাম ইত্যাদিতে।
ভিটামিন: ভিটামিন বি যুক্ত খাবার রক্তে সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়ায়। আর সেরোটোনিনের মাত্রা কমে গেলে বিষণ্নতা বা ডিপ্রেশনে পেয়ে বসে। তাই বলা হচ্ছে, বিষণ্নতা কমাতে সাহায্য করতে পারে এই ভিটামিন বি।
প্রোবায়োটিক: কিছু খাবার অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করে। এদের বলে প্রোবায়োটিক। অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়া মস্তিষ্কে বিষণ্নতা সৃষ্টিকারী রাসায়নিককে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। টক দই একটি ভালো প্রোবায়োটিক।
ডা. মৌসুমী মরিয়ম সুলতানা
মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

ভালো থাকুন


খাবারে অ্যালার্জি



ডা. আ ফ ম হেলালউদ্দিন
প্রিন্ট সংস্করণ




কারও দুধ খেলে পেট খারাপ হয়ে যায়। কারও বেগুনে মুখ চুলকায়। ডিম খেয়ে পেট ব্যথা শুরু হয় কারও কারও। এগুলো ফুড অ্যালার্জি বা খাবারে অ্যালার্জি। অ্যালার্জি থাকলে কেবল বেগুন, চিংড়ি বা গরুর মাংস বাদ—এই ধারণাও ভুল। কেননা একেজনের একেক ধরনের খাবারে অ্যালার্জি থাকে।
* দুধ: বিশেষ করে শিশুদের দুধে অ্যালার্জি বেশি হয়। একে বলে ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স। দুধে যে ল্যাকটোজ নামের উপাদান থাকে তা হজম করার উৎসেচকে সমস্যা থাকে বলেই এমন হয়।
* শস্য: যব, ভুট্টা, ওট, ময়দা ইত্যাদি খাবারে গ্লুটেন থাকে, আর অনেকেরই গ্লুটেনে অ্যালার্জি থাকে। এ ছাড়া সিলিয়াক ডিজিজে আক্রান্ত রোগীরা গ্লুটেন খেতে পারেন না।
* ডিম: ডিমে অনেকেরই অ্যালার্জি থাকে। ডিমের আমিষ অংশ খেলে অনেকের প্রতিক্রিয়া হয়, চোখ লাল হতে পারে, ত্বকে চুলকানি হতে পারে। খুব ছোট শিশুদের ডিম না দেওয়াই ভালো।
* মাছ: সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি, ইলিশ, স্কুইড ইত্যাদিতে অ্যালার্জি হয় বেশি। সবারই চিংড়ি বা ইলিশ খাওয়া নিষেধ তা নয়। যাদের এসব খাবার খেলে প্রতিক্রিয়া হয় শুধু তাঁরাই বাদ দেবেন।
* বাদাম ও বীজ: বাদাম ও বীজজাতীয় খাবারেও অনেকের অ্যালার্জি হয়। এগুলোও আমিষজাতীয় খাবার। তাই ইমিউন সিস্টেমের ওপর প্রভাব ফেলে বেশি।

কীভাবে বুঝবেন অ্যালার্জি?
যদি একই ধরনের খাবার খেয়ে আপনার ত্বক ও মুখ জিবে চুলকানি, র‍্যাশ, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া, শুকনো কাশি, পেট কামড়ানো বা ব্যথা, ডায়রিয়া ইত্যাদি দেখা দেয় তবে বুঝবেন ওই খাবারে আপনার অ্যালার্জি আছে। অনেক সময় খুব তীব্র অ্যালার্জি থেকে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা শুরু হয়ে যেতে পারে। সাধারণত পরিবারেও অ্যালার্জির ইতিহাস থাকে।

কী করবেন?
সহজ উপায় হলো ওই খাবারটি এড়িয়ে চলা। বাড়িতে তা সহজ, কিন্তু রেস্তোরাঁয় বা কেনা অনেক খাবারে এই উপাদান লুকিয়ে থাকতে পারে। সমস্যা দেখা দিলে অ্যান্টিহিস্টামিন খেতে পারেন। শ্বাসকষ্ট হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই ভালো।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ

অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে যেসব প্রাকৃতিক উপাদান

০৩ এপ্রিল ২০১৬, ১০:৪৭
হলুদে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান। ছবি : সংগৃহীত
ব্যাকটেরিয়ার কারণে হওয়া সংক্রমণ দূর করতে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। অ্যান্টিবায়োটিক সংক্রমণের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয় বা বন্ধ করে দেয়। ব্যাকটেরিয়া দিয়ে সংক্রমিত হলে চিকিৎসকরা আমাদের অ্যান্টিবায়োটিক দেন। তবে কিছু প্রাকৃতিক উপাদানও রয়েছে, যেগুলো অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে। এই ভেষজ উপাদানগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই জানিয়েছে এসব প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর কথা।
১. হলুদ
হলুদের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান। এগুলো ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করতে কাজ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটি ব্যাকটেরিয়ার কারণে হওয়া সংক্রমণ প্রতিরোধেও কাজ করে।
২. আদা
আদা বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার কারণে হওয়া সংক্রমণ  প্রতিরোধ করে। শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা প্রতিরোধে আদা খুব ভালো ঘরোয়া উপাদান।
৩. নিম
নিমের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান। এটি ব্রণ তৈরির ব্যাকটেরিয়াগুলোর সঙ্গে লড়াই করে, মুখগহ্বরের সংক্রমণের সঙ্গে লড়াই করে, ক্ষয় ও মাড়ির রোগ প্রতিরোধ করে।
৪. মধু
মধুও আরেকটি চমৎকার অ্যান্টিবায়োটিক। এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিসেপটিক ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান। এটি ব্যাকটেরিয়া উৎপন্ন হওয়াকে ব্যাহত করে।
৫. জলপাইয়ের তেল
জলপাইয়ের তেলও ব্যাকটেরিয়ার কারণে হওয়া সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিভাইরাল উপাদান। এগুলো ত্বকের সংক্রমণ কমায়।

মানসিক চাপ কমায় তুলসি

১২ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৮:৪৩ | আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ২২:১৭
মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে তুলসি। ছবি : সংগৃহীত
হাজার বছর ধরে তুলসি ভেষজ ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি মানসিক চাপ কমায়, হজম ভালো করে, মাথাব্যথা কমায়। এর মধ্যে রয়েছে আরো অনেক ওষুধিগুণ। টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে তুলসির পাঁচ ওষুধিগুণের কথা।
১. নিরাময় শক্তি
তুলসির মধ্যে রয়েছে অনেক ওষুধিগুণ। এটি পাকস্থলীর শক্তি বাড়ায় এবং শ্বাসতন্ত্র সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
২. কিডনির পাথর
তুলসি কিডনির পাথর প্রতিরোধে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ছয় মাস নিয়মিত তুলসির সঙ্গে মধু মিশিয়ে জুস করে খেলে কিডনির পাথর দূর হতে সাহায্য করে। 
৩. মানসিক চাপ
তুলসির মধ্যে রয়েছে মানসিক চাপ কমানোর উপাদান। গবেষণায় বলা হয়, তুলসি মানসিক চাপ প্রতিরোধে সাহায্য করে। সপ্তাহে অন্তত তিন থেকে চারদিন ১২টি করে তুলসিপাতা চিবালে মানসিক চাপ কমে। এ ছাড়া তুলসিপাতা মাথাব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
৪. হজমে সাহায্য করে
এটি হজম ভালো করতে সাহায্য করে এবং হজমের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম নিঃসরণে সাহায্য করে।
৫. ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে
তুলসির শেকড় গুঁড়ো করে সারা রাত ভিজিয়ে রেখে সকালে খেলে ইনসুলিনের ভারসাম্য রক্ষা হয়। এটি ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে।

মাত্র একটি পাতা স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমাবে

২৯ জানুয়ারি ২০১৬, ১৬:১৯ | আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০১৬, ১৬:৪১
জলপাইয়ের পাতার রয়েছে অনেক গুণ। ছবি : সংগৃহীত
জলপাইয়ের তেলের গুণের কথা তো প্রায় সবাই জানি। তবে জানেন কি জলপাই গাছের পাতারও রয়েছে জাদুকরি উপকারিতা? প্রাচীন সংস্কৃতিতে বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে এটি ব্যবহার করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের গবেষণাগুলোতেও এটি ব্যবহারের ইতিবাচক দিকগুলো উঠে এসেছে।
মূলত ফিটোকেমিক্যাল নামক উপাদান থেকে সব স্বাস্থ্যকর গুণের শুরু। ফিটোকেমিক্যাল পাওয়া যায় গাছগাছালি বা উদ্ভিদের মধ্যে। কীটপতঙ্গ থেকে এটি গাছপালাকে সুরক্ষা দেয়। যখন আমরা সেই গাছের লতাপাতা খাই, ফিটোকেমিক্যাল আমাদের শরীরে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।
জলপাইয়ের পাতার মধ্যে অলিওরোপিয়েন নামক এক ধরনের ফিটোকেমিক্যাল পাওয়া যায়। এর রয়েছে বিভিন্ন উপকারিতা যা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলদি অ্যান্ড ন্যাচারাল ওয়ার্ল্ড এবং রিয়েল ফার্মেসি ডট কম জানিয়েছে জলপাইয়ের পাতার বিভিন্ন উপকারিতার কথা।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
জলপাইয়ের পাতার মধ্যে থাকা অলিওরোপিয়েন উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এটি রক্তনালিকে শিথিল করতে সাহায্য করে। রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করে, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন কমায়। এ ছাড়া করনারি আর্টারিতে রক্ত চলাচল ঠিক রাখতে কাজ করে।
ডায়াবেটিস
গবেষণায় দেখা গেছে, জলপাইয়ের পাতা রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি ‘টাইপ টু’ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে। জলপাইয়ের পাতা শরীরের স্বাস্থ্যকর টিস্যুগুলোকে সুরক্ষা দেয়।
ক্যানসার প্রতিরোধ করে
জলপাইয়ের পাতার নির্যাস স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। এটি ক্যানসার তৈরিকারী কোষ বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। এ ছাড়া টিউমারের বৃদ্ধিও কমিয়ে দেয়।
নিউরোপ্যাথি

জলপাইয়ের পাতার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি ইনফ্লামেটোরি উপাদান। এটি মস্তিষ্ককে সুরক্ষা দেয়; কেন্দ্রীয় স্নায়ু পদ্ধতিকে স্ট্রোকের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখে। এ ছাড়া এটি প্রবীণ বয়সের পারকিনসন এবং স্মৃতিভ্রম রোগও প্রতিরোধ করে।
অ্যান্টি ভাইরাল এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান
জলপাইয়ের পাতার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি ভাইরাল এবং অ্যান্টিব্যাকেটিরিয়াল উপাদান। এটি বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করে। এ ছাড়া এতে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট। এটি ফ্রি র‍্যাডিকেল প্রতিরোধ করে। জলপাইয়ের পাতা প্রদাহ থেকে রেহাই দেয়।
হাড়ের গঠন
২০১১ সালে স্পেনে একটি গবেষণার ফলাফলে বলা হয়, অলিওরোপিয়েন হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া প্রতিরোধ করে। হাড় ক্ষয় রোগের সঙ্গে লড়াই করে। এ ছাড়া এই পাতা হাড় তৈরিকারী কোষকে তৈরি হতে উদ্দীপ্ত করে। একে মোটামুটি নিরাপদ খাবারই বলা যায়। জলপাইয়ের পাতার নির্যাস তরল আকারে বা শুকিয়ে গুঁড়ো করে খেতে পারেন। জলপাইয়ের পাতার চা বানিয়েও খেতে পারেন।
তবে যদি কেউ কেমোথেরাপি নেয়, এটি না গ্রহণ করাই ঠিক হবে। আর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো, যে কোনো কিছু গ্রহণের আগে একবার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

নিয়মিত মধু-দারুচিনি পানে আশ্চর্য উপকার!

২৪ আগস্ট ২০১৫, ২১:০৩
অনলাইন ডেস্ক
মধু যে অনেক রোগের চিকিৎসা করতে পারে সেটা বিভিন্ন গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে মধু ও দারুচিনির মিশ্রণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ উপকারী। বিশেষ করে উচ্চমাত্রার কোলেস্টরেল ও রক্তে চিনির পরিমাণ কমাতে এর জুড়ি মেলা ভার। বেশ কয়েক রকমের ভাইরাসের বিরুদ্ধেও লড়াই করে এই মিশ্রণ। সবচেয়ে ভালো বিষয় হলো এই দুটি উপাদানই ভীষণ সহজলভ্য ও সস্তা।
হেলদি ফুড টিম অনলাইন জানিয়েছে, মধু-দারুচিনির দারুণ কিছু উপকারিতার কথা। চলুন দেখে নিই শরীরের কোন কোন সমস্যায় সমাধান দেয় মধু-দারুচিনির মিশ্রণ।
হৃদরোগ :
সুস্থ হৃদয়ের জন্য মধু আর দারুচিনি গুঁড়োর একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। এবার রোজ সকালে জ্যাম-জেলি বা মাখনের বদলে এই মিশ্রণটি পাউরুটিতে মাখিয়ে খান। এটা আপনার রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাবে আর হৃদরোগের সম্ভাবনা কমিয়ে দেবে।
বাত/আর্থারাইটিস :
এক গ্লাস গরম পানিতে দুই টেবিল চামচ মধু আর এক টেবিল চামচ দারচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। এই পানি প্রতিদিন নিয়ম করে সকালে ঘুম থেকে উঠে আর রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে পান করুন। আপনার যদি দীর্ঘমেয়াদি বাতের সমস্যা থাকে তবে তা ভালো করে দেবে এই জাদুকরি পানীয়। সেই সাথে এটা ক্যান্সার প্রতিরোধেও বেশ সহায়ক।
পিত্ত থলিতে সংক্রমণ :
অনেক সময় পিত্ত থলিতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ দেখা দেয়। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রতিদিন এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে দুই টেবিল চামচ দারুচিনির গুঁড়ো ও এক টেবিলচামচ মধু মিশিয়ে পান করুন।
কোলেস্টরল :
জানেন কি? বড় এক কাপ চায়ের সঙ্গে দুই টেবিল চামচ মধুর সঙ্গে তিন টেবিলচামচ দারুচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে পান করার দুই ঘণ্টার মধ্যেই আপনার রক্তে কোলেস্টরলের মাত্রা ১০ শতাংশ কমে যায়। তো নিয়মিত পান করতে শুরু করুন এই পানীয়টি।
ঠাণ্ডা :
হঠাৎ ঠাণ্ডা বা সর্দিতে আক্রান্ত হলে এক টেবিল চামচ মধু আর ১/৪ টেবিল চামচ দারুচিনির গুঁড়ো মিশিয়ে পরপর তিন দিন খান। এটা আপনার ঠাণ্ডা সারাবে, সর্দি ভালো করে দেবে আর সাইনাসের সমস্যা কমিয়ে দেবে।
রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা :
নিয়মিত মধু আর দারুচিনির গুঁড়ো খেলে আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। শরীরের ভেতরে অঙ্গ প্রত্যঙ্গগুলো বিভিন্ন রকমের ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ করে আপনাকে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে।
ফ্লু :
মধুতে থাকা প্রাকৃতিক রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা ফ্লুয়ের জন্য দায়ী ভাইরাসকে ধ্বংস করে এবং ফ্লু থেকে আপনাকে রক্ষা করে।
ওজন কমানো :
বাড়তি ওজন কমাতে চান? তাহলে দারুচিনি গুঁড়ো দিয়ে ফোটানো এক গ্লাস পানিতে মধু মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে খালিপেটে পান করুন।
নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ :
সারাদিন যদি তাজা নিঃশ্বাস নিতে চান তাহলে এক গ্লাস গরম পানিতে এক টেবিল চামচ মধু ও দারচিনি গুঁড়ো মিশিয়ে নিন। এরপর রোজ নিয়ম করে এই পানি দিয়ে কুলি করুন। সারাদিন নিঃশ্বাস থাকবে একদম তরতাজা।

রসুনের আশ্চর্য সাত স্বাস্থ্যকর গুণ

২৭ জুলাই ২০১৫, ১৫:৪৯ | আপডেট: ২৮ জুলাই ২০১৫, ১৩:১০
অনলাইন ডেস্ক
কাঁচা রসুন সেবনে শরীর সুস্থ থাকে। আর নিয়মিত সেবনে অনেক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
রান্নায় অনন্য স্বাদ যুক্ত করে রসুন। শত্তিশালী সুঘ্রাণের কারণে সবজি, মাংস থেকে শুরু করে কাচ্চি, কারি রান্না রসুন ছাড়া চিন্তাই করা যায় না।  উপমহাদেশের রান্নায় দীর্ঘদিন ধরেই রসুন ব্যবহার হচ্ছে। আর বহির্বিশ্বে এর পরিচিতি কম নয়। রসুনকে অনেকেই বলে থাকেন ‘পাওয়ার হাউস অব মেডিসিন অ্যান্ড ফ্লেভার’। কারণ কাঁচা বা সিদ্ধ রসুন কোয়া সেবনে শরীর সুস্থ থাকে। আর নিয়মিত সেবনে অনেক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
ভারত উপমহাদেশে আদিকাল থেকেই বিভিন্ন রোগে কাঁচা রসুন সেবনের প্রচলন আছে। এ ছাড়া আরো অনেক কাজে রসুন ব্যবহার হয়। অনেক সংস্কৃতিতেই এখনো রসুনের ব্যবহার বেশ প্রচলিত। আমাদের পূর্বপুরুষরা পোকা দমণে রসুন ব্যবহার করেছেন, তেমনি মধ্যযুগে ইউরোপবাসী এটি ব্যবহার করেছেন প্লেগ দমনে।

রসুনে আছে সালভারভিত্তিক যৌগ অ্যালিসিন, যা অনেক রোগ নিরাময়ে কাজ করে। কাঁচা রসুন চিবিয়ে খাওয়ায় শরীরে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাশ প্রতিরোধী ক্ষমতা তৈরি হয়। অনেকের দাবি, রসুন নিয়মিত সেবনে অনেক ক্যানসার প্রতিরোধ হয়।

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী রসুনের সাতটি ব্যবহার এবং এর ফলে স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাবের বিষয়ে জানানো হলো।

রক্ত পরিষ্কার রাখে 
প্রতিদিন সকালে রসুনের দুটি কোয়া ও এক গ্লাস পরিমাণ গরম পানি সেবন করতে হবে। আর দিনে প্রচুর পরিমাণ পানি পান করতে হবে। এতে রক্ত পরিষ্কার হবে এবং ত্বক ভালো থাকবে। আর ওজন কিছুটা কমাতে চাইলে সকালে রসুনের সঙ্গে পান করা গরম পানিতে কিছুটা লেবুর রস দিতে হবে।
ঠান্ডা ও জ্বরে 
প্রায়ই ঠান্ডা ও জ্বরে পড়েন এমন ব্যক্তিদের জন্য রসুন হতে পারে এক মহৌষধ। শরীর থেকে জ্বর আর ঠান্ডা দূর করতে প্রতিদিন দু-তিন কোয়া রসুন কাঁচা খেতে হবে। এ ছাড়া রান্না করা বা চায়ের সঙ্গেও রসুন খাওয়া যায়। আর রসুনের গন্ধ খারাপ লাগলে এর সঙ্গে আদা ও মধু মিশিয়ে নেওয়া যায়। এভাবে নিয়মিত সেবনে ঠান্ডা ও জ্বর শুধু সাময়িক দূর হবে না বরং শরীরে এগুলোর প্রতিরোধক্ষমতাও বাড়বে।

হৃদরোগ থেকে বাঁচতে 
প্রতিদিন রসুনের কয়েকটি কোয়া কাঁচা বা আধা সিদ্ধ করে সেবনে কেলেস্টেরলের মাত্রা কম থাকে। আর রক্তচাপ ও রক্তে চিনির মাত্রা ঠিক রাখতেও রসুন কাজ করে। রসুনের মধ্যে থাকা সালফার-ভিত্তিক যৌগ অ্যালিসিন মূলত স্বাস্থ্যে এই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, রসুন কাঁচা সেবন সবচেয়ে ভালো। সিদ্ধ করা হলে অ্যালিসিনের ঔষধি গুণ কমতে থাকে।

ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণুঘটিত রোগ প্রতিরোধে 
ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণুঘটিত রোগ প্রতিরোধে হাজার বছর ধরেই রসুন ব্যবহৃত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের কৃমি দূর করতে রসুনের নির্যাস ভালো কাজ করে। রসুনের নির্যাস থেকে ‘মাউথ ওয়াশ’ (মুখের ভেতর পরিষ্কারের তরল) তৈরি করা যায়। এটি নিয়মিত ব্যবহারে মাড়িতে ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার বন্ধ হয়।

ক্যানসার প্রতিরোধে 
প্রতিদিন নিয়মিত কাঁচা ও রান্না রসুন সেবনের মাধ্যমে পাকস্থলী ও কোলন ক্যানসার প্রতিরোধ করা যায়। বেশ কয়েকটি গবেষণায় এই দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া নিয়মিত রসুন সেবনে শরীরে সব ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়।

ত্বক ও চুলের যত্নে 
নিয়মিত রসুন সেবনে ত্বক সুন্দর হয় ও বয়সের ছাপ দূর হয়। এ ছাড়া ফাঙ্গাশ ও ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে ত্বক সুরক্ষায় নিয়মিত রসুন সেবন করতে হবে। আর চুল পড়া বন্ধ ও নতুন চুল গজাতে রসুন ভালো কাজ করে। এই উপকার পেতে মাথায় নিয়মিত রসুনের নির্যাস বা রসুন সমৃদ্ধ তেল ব্যবহার করতে হবে।

কাটা সারিয়ে তুলতে 
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রসুনের অনেক ব্যবহার বিস্মৃত হয়ে গেছে, যার একটি হলো কাটা সারিয়ে তোলা। কাঠ বা বাঁশে ছোট টুকরো শরীরে কোথাও ঢুকে গেলে তা বের করে সেখানে রসুনের কোয়া কেটে লাগিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে শরীরের ওই অংশে ব্যান্ডেজ করে দিতে হবে। কয়েকদিনের মধ্যেই সেরে উঠবে ওই কাটা।

রসুন ব্যবহারে সাবধানতা 
হাঁপানি রোগী বা শ্বাসকষ্ট আছে এমন ব্যক্তিরা রসুন ব্যবহারে সাবধান থাকুন। অনেক ক্ষেত্রেই রসুন ব্যবহারে এমন রোগীদের মধ্যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অপারেশনের আগে রসুন সেবন বন্ধ রাখতে হবে। আর চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দিনে দু-তিনটির বেশি রসুনের কোয়া খাওয়া যাবে না।

কলার ১০ গুণ

০৪ এপ্রিল ২০১৫, ১৪:৫৫ | আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০১৫, ১৫:১০
কলা খেলে বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ হয়।ছবি : অরগানিক ফ্যাক্টস
শুনতে কিছুটা অদ্ভুত হলেও, দেহের এমন কিছু সমস্যা রয়েছে যা রোধে ওষুধের থেকে কলা অনেক কার্যকরী। কলার মধ্যে রয়েছে প্রোটিন, প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এবং অন্যান্য পুষ্টিগুণ; এটি খেতেও বেশ মাজাদার। সম্প্রতি একটি গবেষণায় বলা হয়, এই ফল নারীর ঋতুস্রাবের সমস্যা সমাধান করে এবং দেহে শক্তি জোগায়। কলায় থাকা প্রচুর পরিমাণ ফাইবার বিভিন্ন রোগ থেকে দেহকে রক্ষা করে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েব সাইট হেলদি ফুড টিম জানিয়েছে দেহের ১০ টি সমস্যার কথা যা রোধে কলা খাওয়া বেশ উপকারী।
১. কলা শক্তির (এনার্জি) অত্যন্ত ভালো উৎস। এর ফলে অনেক খেলোয়াড়কেই বেশি পরিমাণ কলা খেতে দেখা যায়।
২. কলার মধ্যে রয়েছে এমাইনো এসিড, যেটি মানসিক চাপ রোধক হিসেবে কাজ করে। এর মধ্যে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়াম- যা বিষণ্ণতা রোধে কাজ করে।
৩. কলার মধ্যে রয়েছে উচ্চ পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং সামান্য পরিমাণ লবণ যা হৃদপিণ্ড ভালো রাখতে সাহায্য করে; এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও কাজ করে।
৪. প্রতিদিন একটি করে কলা খাওয়া স্মৃতিশক্তি বাড়ায়।
৫. এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ আয়রন, যা রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ায় এবং যেসব রোগীর রক্তস্বল্পতা বা এনিমিয়া রোগ রয়েছে তাদের জন্য এটি বেশ উপাদেয়।
৬. কলা দেহের হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৭. সন্তানসম্ভবা নারীর জন্য কলা খাওয়া খুবই উপকারী। কেননা এটি সকালেবেলার  দুর্বলতা কাটাতে কাজ করে এবং রক্তের শর্করার সামঞ্জস্য বজায় রাখে।
৮. কলা পাকস্থলির এসিডকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং পাকস্থলির আলসার রোধে কাজ করে।
৯. এর মধ্যে ছয় ধরনের ভিটামিন রয়েছে, যা রক্তে শর্করা গঠনে কাজ করে।
১০.এর মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার। রোজ সকালে এটি পাকা কলা খাওয়া আপনার কোষ্টকাঠিন্য দূর করে শরীরকে সুস্থ রাখবে।

অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে যেসব প্রাকৃতিক উপাদান

০৩ এপ্রিল ২০১৬, ১০:৪৭
হলুদে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান। ছবি : সংগৃহীত
ব্যাকটেরিয়ার কারণে হওয়া সংক্রমণ দূর করতে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। অ্যান্টিবায়োটিক সংক্রমণের বৃদ্ধি কমিয়ে দেয় বা বন্ধ করে দেয়। ব্যাকটেরিয়া দিয়ে সংক্রমিত হলে চিকিৎসকরা আমাদের অ্যান্টিবায়োটিক দেন। তবে কিছু প্রাকৃতিক উপাদানও রয়েছে, যেগুলো অ্যান্টিবায়োটিকের কাজ করে। এই ভেষজ উপাদানগুলো রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই জানিয়েছে এসব প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর কথা।
১. হলুদ
হলুদের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান। এগুলো ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধ করতে কাজ করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এটি ব্যাকটেরিয়ার কারণে হওয়া সংক্রমণ প্রতিরোধেও কাজ করে।
২. আদা
আদা বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার কারণে হওয়া সংক্রমণ  প্রতিরোধ করে। শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা প্রতিরোধে আদা খুব ভালো ঘরোয়া উপাদান।
৩. নিম
নিমের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিবায়োটিক উপাদান। এটি ব্রণ তৈরির ব্যাকটেরিয়াগুলোর সঙ্গে লড়াই করে, মুখগহ্বরের সংক্রমণের সঙ্গে লড়াই করে, ক্ষয় ও মাড়ির রোগ প্রতিরোধ করে।
৪. মধু
মধুও আরেকটি চমৎকার অ্যান্টিবায়োটিক। এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিসেপটিক ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল উপাদান। এটি ব্যাকটেরিয়া উৎপন্ন হওয়াকে ব্যাহত করে।
৫. জলপাইয়ের তেল
জলপাইয়ের তেলও ব্যাকটেরিয়ার কারণে হওয়া সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিফাঙ্গাল ও অ্যান্টিভাইরাল উপাদান। এগুলো ত্বকের সংক্রমণ কমায়।








Comments

Popular posts from this blog

দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার ঝুঁকি

১৫৫ কেজি ওজন কমিয়েছেন আদনান সামি! বিনোদন ডেস্ক

গেমিংয়ের নেশা ‘মানসিক রোগ’