নতুন করে শুরু করুন


যত্ন নেওয়া চাই মনেরও...



হাসিখুশি থাকুন মনও ভালো থাকবে। মডেল: জুডি। ছবি: অধুনাহাসিখুশি থাকুন মনও ভালো থাকবে। নাভালো ও মন্দ—দুটি মিলিয়েই আমাদের পথচলা। কখনো কাঙ্ক্ষিত বস্তুটি পেয়ে যাই হাতের নাগালে, আবার কখনো হয় উল্টোটা। পরিবার কিংবা প্রিয় মানুষটির সঙ্গে দূরত্ব আবার পড়াশোনা, চাকরির নানা ঝক্কি–ঝামেলা। সব মিলিয়ে নিজের মনটাকে খুশি রাখাই হয়ে পড়ে দুরূহ। কিন্তু তাই বলে তো এভাবে বসে থাকাও সম্ভব নয়। কথায় আছে, ‘মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে’। ঠিক এমনটাই আমাদের বাস্তব জীবনেও। তাই ঝামেলা যতই আসুক, চেষ্টা করুন নিজেকে খুশি রাখার।

 কিন্তু এত সব ঝামেলার মাঝে মন ভালো রাখা কি এতটাই সহজ?

এ জন্য মেনে চলতে পারেন বেশ কিছু উপায়।

 ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের প্রভাষক এবং কাউন্সেলর অ্যানি বাড়ৈ জানান, ‘মন খারাপ বা বিষণ্ন হয়ে পড়া একটি স্বাভাবিক মানসিক আবেগ। কিন্তু এটি তখনই ক্ষতিকর হয়ে পড়ে, যখন এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়ে পড়ে। এর ফলে কিন্তু ব্যক্তি বাইপোলার ডিসঅর্ডার, হীনম্মন্যতায় ভোগা—এ রকম বেশ কিছু মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।’ এ জন্যই প্রয়োজন মন খারাপের এই আবেগটিকে স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখা এবং এর সমাধান করা।

তিনি এ বিষয়ে বেশ কিছু পরামর্শ দেন—

. সমস্যা মেনে নিন

    কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে তাকে স্বাভাবিকভাবেই নিন। হয়তো আপনি পছন্দের বিভাগে ভর্তি হতে পারেননি কিংবা পরিবারের বিভিন্ন সংকট আপনার মানসিক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই সময়টুকুর মধ্যে নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করুন, কোনো সমস্যা চিরস্থায়ী নয়। আপনার এই সমস্যাগুলো একদিন সামান্য মনে হবে।

. নিজের কাজে মনোযোগী থাকা

    এসব দিনে কার কাজ করতে ভালো লাগে? এদিকে আবার বসে থাকলে নিজেই পিছিয়ে পড়ছেন। তাই নিজেকে সময় দিন এবং পরিকল্পনাগুলো গুছিয়ে ফেলুন। হয়তো শুরুতে আপনার আগ্রহ থাকবে না। তাই নিজেকে এই সময় দেওয়া। এরপর না হয় নিজ উদ্যোগে গুছিয়ে সেভাবে কাজ করা শুরু করুন।

. আবেগ প্রকাশ করুন প্রিয় কোনো বন্ধুর কাছে

    আমরা হালকা বোধ করি যখন নিজের সমস্যার কথাগুলো কাউকে মন খুলে বলতে পারি। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, এর মধ্যেই কিন্তু অনেকটা মানসিক উদ্বেগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তাই কাছের কোনো বন্ধু বা পরিবারের সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করুন। এটাও খেয়াল রাখুন, যাঁর সঙ্গে আলোচনা করছেন, তিনি আসলেই আপনার বিশ্বাসের যোগ্য কি না।

. পছন্দের কাজগুলো

    এত দিন ব্যস্ততার মধ্যে নিজের শখগুলো ভুলে ছিলেন। কটা দিন না হয় এই কাজগুলোর মাঝেই নিজেকে ব্যস্ত রাখলেন। বই পড়া, গান শোনা কিংবা কোথাও ঘুরতে যাওয়া। বিশেষ করে একই পরিস্থিতির মধ্যে থাকার ফলে একঘেয়ে লাগে। তাই সময় করে কোথাও বেড়িয়ে পড়ুন এবং সেখানেই ধীরস্থিরভাবে পরিকল্পনা করুন।

. নিজের জীবনের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা

    নদীর ওপারেই যেন সকল সুখ—আসলে নদীর দুপারেই সমস্যা থাকে। হয়তো কারও সমস্যা আর্থিক আবার কারও পারিবারিক। তাই চেষ্টা করুন নিজের জীবনের প্রতিটি বিষয়ের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার। অন্যের সঙ্গে তুলনা না করে নিজের ছোটখাটো বিষয়ের প্রতি মনোযোগী হোন।

. যোগব্যায়াম কিংবা মেডিটেশন

    সপ্তাহে দু–তিন দিন চেষ্টা করুন মেডিটেশন করার। প্রতিদিন সকাল কিংবা সন্ধ্যায় কিছু সময় হাঁটতে পারেন। এতে শরীর ও মন—দুটিই ভালো থাকবে। সেই সঙ্গে পরিমিত এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও পানীয় পান করুন।

. ভিন্ন কিছু করুন

    প্রতিদিনের একই তালিকা থেকে কিছুদিন নিজেকে বিরত রাখুন। শুধু বিষণ্নতার ক্ষেত্রেই নয়, স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততার মধ্যেও প্রয়োজন। ভিন্ন কিছু রান্না করা, ছবি আঁকা এমনকি নিজের ঘরটা না হয় নতুন করে সাজিয়ে নিলেন।

. কিছু বিষয় যেতে দিন

    সব সময় ‘হতেই হবে’ এমন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসুন। কিছু পরিস্থিতির জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখার চেষ্টা করুন। সব সময় প্রথম হয়েই যে আপনি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবেন এমন নয়, বরং হোঁচট খেয়েই দাঁড়াতে শিখুন।

 তাই নিজেকে না হয় একটু সময় দিন! কিছুটা সময় প্রাণবন্ত থাকার!

অভ্যাস- নতুন করে শুরু করুন



নতুন বছরে জীবনযাপনে পরিবর্তন আনুন, নতুন উদ্যোমে শুরু করুন। মডেল: তনকা। ছবি: অধুনা 






নতুন বছরে জীবনযাপনে পরিবর্তন আনুন, নতুন উদ্যোমে শুরু করুন। কোথা থেকে শুরু করব—এমন দ্বিধায় বছরের পর বছর কেটে যায় অনেকের। শত শত পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে বছর শুরুর পরিকল্পনা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আর বাস্তবে দেখা যায় না। আপনি কতটা দক্ষ তা নির্ভর করছে আপনার পরিকল্পনার ওপর। আর কী বাস্তবায়ন করছেন, তার মধ্যকার মিল কতটুকু আছে তার ওপর। পরিবার, কর্মক্ষেত্র আর ব্যক্তিত্ব বিকাশ—এই তিন ভাগে আপনার সারা বছরের পরিকল্পনা বছরের শুরুতেই নিয়ে নিতে পারেন। ছোট করে শুরু করলে সাফল্যের মাত্রা অনেক বেড়ে যায় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে।
মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনাবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এস এম আরিফুজ্জামান নতুন বছরকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা নিয়ে বেশ কিছু পরামর্শ দিচ্ছেন।
পরিবারের জন্য যা ঠিক করবেন
* বছরের শুরুতেই পরিবারের জন্য কতটুকু সময় দিতে চান, তা ঠিক করে নিন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বছরে দুই-তিন জায়গা ঘুরে আসুন। উৎসব-পার্বণে পরিবারের জন্য ছুটি হাতে রাখুন।
* সন্তানকে সময় দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবুন। সন্তানের বনভোজন, স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন সামাজিক উৎসবে সময় দেওয়ার কথা মাথায় রাখুন।
* বছরের শুরুতে আত্মীয়দের কতটা সময় দেবেন, কার বাড়িতে বেড়াতে যাবেন, তা পরিকল্পনা নিয়ে তাদের জানিয়ে রাখুন।
* বছরের নির্দিষ্ট কিছু কেনাকাটা যেমন নতুন টেলিভিশন বা ফ্রিজ কেনার পরিকল্পনা নিয়ে টাকা জমানো শুরু করুন।
* পরিবারের জন্য আগের বছরের কোনো দেনা বা দায় থাকলে তা দ্রুত পরিশোধের পরিকল্পনা করুন।
কর্মক্ষেত্রে নতুন বছরে যা করবেন
* সারা বছরের অফিসের প্রোজেক্ট কিংবা কাজের লক্ষ্যমাত্রাগুলো আগেই ঠিক করে নিন। আগের বছরের কোনো কাজ বাকি থাকলে তার অগ্রগতি জেনে ঝাঁপিয়ে পড়ুন।
* কথায় বলে, ‘অফিসে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ডেস্ক কাজে মনোযোগ বাড়ায়’। আপনার কর্মক্ষেত্রের চারপাশটা গুছিয়ে রাখুন বছরের প্রথম থেকেই। কাজের টেবিল অগোছালো না রেখে টবে ছোট গাছ কিংবা ক্ষুদ্রকায় অ্যাকুরিয়াম টেবিলে রাখুন।
* অফিসের কাজ আর মিটিংয়ের জন্য ডায়েরি বা অনলাইনে ক্যালেন্ডার তৈরির অভ্যাস গড়ে তুলুন।
* নিয়মিত অফিস ডায়েরি লেখার অভ্যাস করতে পারেন। এতে প্রতি মাস শেষে আপনার অগ্রগতি, দুর্বলতা কিংবা ভুলগুলো নিজেই দেখার সুযোগ পাবেন।
* কর্মদক্ষতা বাড়ানোর জন্য বছরের কোন মাসে কোন কর্মশালা কিংবা সেমিনারে অংশ নিতে চান, তা আগে থেকেই ঠিক করে নিন। বছরে দু-তিনটি পেশাদার প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিন।
* নিজের ই-মেইল-ইনবক্সকে আরও পেশাদারভাবে ব্যবহার করতে অভ্যস্ত হোন।
ব্যক্তিত্ব বিকাশে যা করবেন
* নতুন বছরে অন্তত চার-পাঁচটি বই পড়ুন। পেশাসংশ্লিষ্ট দক্ষতা বিকাশে সহায়ক বই পড়ার পাশাপাশি গল্প-উপন্যাস পড়ার পরিকল্পনা করুন।
* নিজেকে বিকাশের জন্য মাস হিসাব করে চ্যালেঞ্জ গ্রহণের চেষ্টা করুন। যেমন জানুয়ারিতে ৩১ দিন আপনি ভোর পাঁচটায় উঠবেন, ফেব্রুয়ারিতে প্রতিদিন সকাল-বিকেল ৪০ মিনিট করে দৌড়াবেন, মার্চে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের চেষ্টা করবেন—এমন করে বারো মাস গুছিয়ে নিন।
* নিজের সুস্থতার দিকে মনোযোগ দিন। মানসিক চাপ কমানো থেকে শুরু করে শারীরিক কোনো ব্যথা কিংবা অসুস্থতা নিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সুস্থ না থাকলে সাফল্যের কোনো মূল্য নেই।
* দৈনন্দিন পরিকল্পনা গুছিয়ে নেওয়ার অভ্যাস করুন বছরের প্রথম থেকেই। প্রতিদিন সকালে নাশতা, বিকেলে বই পড়া কিংবা সন্ধ্যায় পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনা নিলে আপনার দিনগুলো বেশ ভালোই কাটবে।
* দাঁত ব্রাশ, শেভিং কিটস বদলে ফেলুন নিয়মিত। দু-তিনটি নতুন পোশাক বানাতে পারেন।
* সামাজিক যোগাযোগের দুনিয়ায় আসক্তি কমিয়ে বাস্তব দুনিয়ায় সময় ও মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করুন।
* নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রতিদিন মুঠোফোন কিংবা ল্যাপটপ থেকে দূরে থাকার অভ্যাস করে নিজের মনোযোগ বিকাশে সময় দিন।
* ডায়েরি লেখার অভ্যাস করতে পারেন।
* নিজের কোনো শখ থাকলে সেখানে সময় দিন। শখ না থাকলে বারান্দায় বাগান কিংবা পোষা প্রাণী বাড়িতে রাখুন। এতে আপনার মন সব সময়ই ফুরফুরে থাকবে।
* আর্থিক স্বাধীনতার দিকে খেয়াল রাখুন। পুরোনো ঋণ থাকলে দ্রুত পরিশোধ করুন। কারও কাছে অর্থ বা অন্য যেকোনো কিছু দেনা-পাওনা থাকলে তা পরিশোধ করে নিজের ইতিবাচক জীবন নিশ্চিত করুন।


চট করে চটে যাওয়া!



দুই বন্ধু হাসছিলেন, খাচ্ছিলেনদুই বন্ধু হাসছিলেন, খাচ্ছিলেনধরা যাক জনপ্রিয় সেই অভিনেতার নাম শমিক। রাস্তাঘাটে তাঁর ভক্তরা অদ্ভুত সব আচরণ করে তাঁকে দেখলে। কেউ কেউ অটোগ্রাফ নিতে আসে, কেউ কেউ ছবি তোলে, কেউবা কিছু তির্যক মন্তব্যও ছুড়ে দেয়। একদিন শুটিং সেরে ফেরার পথে কেনাকাটা করতে একটি বিপণিবিতানে ঢুকতেই এক কিশোর শমিককে  একটি ব্যঙ্গাত্মক কথা বলে উঠল। শমিক আর সহ্য করতে পারলেন না, উঠে গিয়ে ছেলেটির শার্টের কলার চেপে ধরলেন, দিলেন দু-এক ঘা লাগিয়ে। চারদিকে ভিড় জমে গেল। অনেকে এই ছবি তুলে ফেললেন। মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আর অনলাইন পত্রিকাগুলোতে সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ল।
কেবল জনপ্রিয় ব্যক্তিত্বরাই নন। যে কেউ যেকোনো মুহূর্তে রাগ করে ফেলতে পারেন। বন্ধুর জন্য অপেক্ষা করছেন, খুবই জরুরি দরকার। তিনি এলেন পাক্কা দেড় ঘণ্টা পর। এতটা সময় একা বসে বসে নিজের আঙুল কামড়েছেন আর বন্ধু আসতেই যা নয় তাই বলে গালাগালির পালা শেষ করলেন; অথবা টেবিলের পেপারওয়েটটাই ছুড়ে দিলেন তাঁর দিকে।
চট করে রেগে যাওয়া কোনো মানসিক বৈকল্য কিংবা স্নায়ুতন্ত্রের কোনো রোগ নয়। বরং প্রকৃত সুস্থ মানুষের স্বাভাবিক একটি আবেগ বা ইমোশন। সুস্থ মনের স্বাভাবিক উপাদান এই রাগ। কোনো উসকানির কারণে সামান্য বিরক্তি থেকে শুরু করে প্রবল উত্তেজনা, রাগে আগুন হয়ে হিতাহিত জ্ঞান হারানো পর্যন্ত এই আবেগের বিস্তৃতি। মানুষের ষড়রিপুর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে এই আবেগকে রাখা হলেও মনোবিজ্ঞানের ব্যাখ্যায় এবং শারীরবৃত্তীয় কার্যকলাপে এটি একটি সাধারণ স্বাভাবিক আবেগ।
কিন্তু যদি এই আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, যদি এই আবেগ অপরিমিত পরিমাণে প্রকাশ পায় বা যৌক্তিক কারণ ছাড়াই মানুষ রাগ করে, তখন দেখা দেয় নানা সমস্যা। মনোসামাজিক সমস্যা থেকে শুরু করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইনি জটিলতায় পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
চট করে চটে গেলেন এক বন্ধু। মডেল: নীল ও রাতুল, ছবি: কবির হোসেনচট করে চটে গেলেন এক বন্ধু।  
 মানুষের অন্যান্য আবেগের মতো রাগের কারণে শরীরে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়—হৃৎপিণ্ডের গতি ও রক্তচাপ বেড়ে যায়, এড্রিনালিন ও নরএড্রিনালিন নামক হরমোনের নিঃসরণ বেড়ে যায়, এর সঙ্গে সক্রিয় হয় মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণের কিছু কেন্দ্র (লিম্বিক সিস্টেম, অটোনমিক নার্ভাস সিস্টেম)। শরীরের বাইরের কোনো ঘটনা যেমন আশপাশের মানুষের আচরণ, রাস্তায় যানজট বা পরিবারের কোনো সদস্যের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ এবং শরীরের ভেতরের কোনো পরিবর্তন যেমন ব্যক্তিগত কোনো সমস্যা নিয়ে দুশ্চিন্তা বা অতীতের কোনো অপ্রাপ্তির বেদনা থেকেও রাগের প্রকাশ হতে পারে। নিয়ন্ত্রিত রাগ যেহেতু মানুষের স্বাভাবিক আবেগ, তাই এর কিছু ভালো দিকও ব্যাখ্যা করেছেন বিজ্ঞানীরা। বলা হয়, যেকোনো ধরনের পারিপার্শ্বিক হুমকির (শারীরিক, মানসিক) সঙ্গে অভিযোজিত হওয়ার জন্য আমাদের দেহ ও মনের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া এই রাগ। প্রতিকূল পরিবেশে রাগের মাধ্যমে শুরু হওয়া আমাদের আচরণগত পরিবর্তন সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিকে অতিক্রম করতে পারে। তাই নিয়ন্ত্রিত রাগ সব সময় খারাপ নয়।
সবাই কিন্তু সমানভাবে রাগে না, কেউ রাগ করে কাপ-পিরিচ ভাঙে, কেউ উচ্চ স্বরে চিৎকার করে, কোনো কারণে কেউ ধুম করে রেগে ওঠে, কেউ অন্যকে আঘাত করতে এগিয়ে যায়—যাদের আমরা বলি মাথা গরম। আবার কেউবা তার চাইতে বেশি রাগের কারণেও খুব বেশি বহিঃপ্রকাশ ঘটায় না, তবে পারিপার্শ্বিকতা থেকে নিজেকে শামুকের মতো গুটিয়ে নেয়। এই যে একেকজনের রাগের প্রকাশ যে একেক রকম, তার মূলে রয়েছে জেনেটিক, পারিবারিক ও সামাজিক প্রভাব। জটিলতাপূর্ণ পরিবার ও অশান্তিময় দাম্পত্য সম্পর্ক সন্তানকে সহজেই রেগে যেতে সহায়তা করে। সংঘাতময় রাষ্ট্র, রাজনৈতিক অস্থিরতা, বর্ণবৈষম্য, সামাজিক ন্যায়বিচারের অভাব, প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় দ্বৈতনীতি ইত্যাদি সামাজিক কারণেও ব্যক্তির রাগের প্রকাশ ভিন্নতর হতে পারে।
যাঁরা জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব যেমন খেলোয়াড়, অভিনেতা, শিল্পী, সাহিত্যিক বা বিশিষ্ট কোনো পদধারী মানুষ, তাঁরা সব সময় একটা সামাজিক চাপে থাকেন! এই চাপ অনেক সময় তাঁদের রাগের বহিঃপ্রকাশকে অনিয়ন্ত্রিত করে ফেলতে পারে, যা তাঁদের ক্যারিয়ারের জন্য অনেক সময় ক্ষতিকর হয়ে যায়। রাগ প্রকাশের ক্ষেত্রে তাঁদের আরও বেশি দায়িত্ববান হতে হবে। তাঁরা যেন কখনোই মনে না করেন যে ‘জনপ্রিয়তা’ তাঁদের সব ধরনের আবেগের অনিয়ন্ত্রিত বহিঃপ্রকাশের অনুমোদন দিয়েছে।
রাগের মতো সাধারণ আবেগটি যাতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রকাশ না পায়, সে জন্য মার্কিন বিজ্ঞানী গার্লস স্পিয়েলবারগার রাগের নিয়ন্ত্রিত প্রকাশভঙ্গির কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর গবেষণায় তিনি বলেছেন, রাগকে পুরোপুরি চেপে রাখা যাবে না, একবারে দমন করা যাবে না; কারণ অবদমিত রাগ থেকে হতে পারে নানাবিধ মানসিক ও শারীরিক সমস্যা; হতে পারে বিষণ্নতা, উচ্চরক্তচাপ, খিটখিটে মেজাজ, বিশ্বনিন্দুক চরিত্রের মালিক।
অবদমিত রাগের কারণে হতে পারে ব্যক্তিত্বের সমস্যা। রাগের প্রকাশ হতে হবে গঠনমূলক, দৃঢ় কিন্তু মোটেই আক্রমণাত্মক নয়। যা কিছু চাওয়ার, তা চাইতে হবে অন্যকে আঘাত না করে আর যা কিছু না চাওয়ার, তা বর্জন করতে হবে অন্যের প্রতি সম্মান রেখে। যে বিষয়টি নিয়ে রাগ হচ্ছে, সেটিকে কেবল নিজের দিক থেকে না দেখে প্রায় ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরিয়ে আনতে হবে দৃষ্টিভঙ্গি, আর তাতেই বিষয়টি উপস্থাপিত হতে পারে ভিন্নমাত্রায়, বদলে যেতে পারে আপনার রাগের প্রকাশভঙ্গি, বদলে যেতে পারে আচরণ। সেই সঙ্গে নিজের ভেতরে নিয়ে আসতে হবে স্থিরতা, যুক্তিগ্রাহ্য, যা কেবল মানসিক প্রশান্তিই আনবে না বরং উৎকণ্ঠা, উচ্চরক্তচাপ বা বিষণ্নতার মতো জটিল রোগ থেকে রক্ষা করবে।

হুট করে রাগ নয়
কিছু পদ্ধতির মাধ্যমে রাগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনে যার চর্চা করলে আমরা চট করে রেগে যাওয়াকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব—
*    বলা হয়, ‘যুক্তি রাগকে পরাজিত করে’। তাই রাগের লাগাম হিসেবে যুক্তির বিকল্প নেই, কারও ওপর বা কোনো ঘটনার ওপর রাগ করলে ভেবে দেখুন ঘটনাটি কেন ঘটেছে। আপনার রাগ করার যথার্থ কারণ থাকলেও যুক্তির প্রয়োগে আপনি সেই কারণটিকে একপাশে সরিয়ে রাখতে পারেন।
*    রাগের কারণ ঘটলে নিজের শরীরকে যতটা সম্ভব শিথিল করে ফেলুন—বড় করে শ্বাস নিন, কোনো গঠনমূলক ছোট বাক্য যেমন ‘ঠিক আছে’ ‘শান্ত হও’ বারবার উচ্চারণ করতে পারেন। ভালো কোনো সুন্দর দৃশ্য, আপনার প্রিয়জনের মুখচ্ছবি মনে করতে পারেন।
*   প্রতিদিন অক্সিজেনযুক্ত মুক্ত বাতাসে হাঁটুন, বড় করে শ্বাস নিন। প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটান এবং তাদের নিয়ে অবসরে বেড়িয়ে আসুন।
*   অভিভাবকেরা কখনোই শিশুদের সামনে রাগ করবেন না। আপনাদের এই আচরণের প্রভাবে শিশুরা পরিণত বয়সে রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না।
*    আলাপচারিতার সময় ‘কখনোই না’ ‘সব সময়ই’ ‘অবশ্যই’ এ-জাতীয় শব্দচয়ন পরিহার করতে পারেন। কর্মক্ষেত্রে সহকর্মী বা অধস্তনদের সঙ্গে কথোপকথনে আদেশজাতীয় বাক্যের পরিবর্তে অনুরোধের সুরে কথা বলুন। এভাবে ইতিবাচক ভঙ্গিতে কথা বলা অভ্যাস করলে কেবল নিজের রাগকে যে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা-ই নয়, বরং আশপাশের মানুষও রাগ করার কারণ খুঁজে পায় না।
*   প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যে কিছু না কিছু সময় নিজেকে দিন। নিজেকে নিয়ে ভাবুন, সারা দিনে কী করলেন বা কী করবেন সেটা মনের মধ্যে সাজিয়ে নিন।
*    নাটক সিনেমা চলচ্চিত্রে রাগী ব্যক্তিত্বের নায়কের অনুকরণে দর্শকদের মধ্যে রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে পারে। তাই নির্মাতাদের প্রয়োজনে দায়িত্বশীল হতে হবে।
*    কোনো কিছু মুখ দিয়ে উচ্চারণ করার আগে বা কিছু করার আগে একটু ভাবুন, আপনার এই কথা বা আচরণে আরেকজনের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে। নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি যা বলতে যাচ্ছেন বা করতে যাচ্ছেন, তা আরেকজনের মুখ থেকে শুনলে বা আরেকজন করলে আপনার প্রতিক্রিয়া কী হতো।
*    বিকল্প চিন্তা করার ক্ষমতা অর্জন করুন। যেমন কারও একটি খণ্ডিত আচরণে তার ওপর রাগ করে কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। তার আচরণের পেছনের কারণগুলো বুঝতে চেষ্টা করুন।
*    হাসার অভ্যাস করুন। হাসলে আপনি খেলো হয়ে যাবেন, আপনার ব্যক্তিত্ব হালকা হয়ে যাবে, তা কখনোই ভাববেন না। ব্যক্তিগত জীবনে আর কর্মক্ষেত্রে নির্মল হাস্যরসের চর্চা করুন।
*    যেকোনো ধরনের মাদক গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ মাদক গ্রহণ করলে আবেগ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা কমে যায়। তখন মানুষ মাদক গ্রহণ না করা অবস্থাতেও হুট করে রেগে যায়।
*    রাগের মাথায় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। পরে ভেবেচিন্তে কারও সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন।
*    বিষণ্নতা, অবসেশন, ব্যক্তিত্বের সমস্যা, শিশু-কিশোরদের কনডাক্ট ডিসঅর্ডার ইত্যাদি মানসিক সমস্যার কারণে রাগের অনিয়ন্ত্রিত বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। তাই ক্রমাগত রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করতে পারেন।
আহমেদ হেলাল
সহযোগী অধ্যাপক, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট, ঢাকা।

মন কোথায় থাকে?


মন নিয়ে কবি সাহিত্যিকরা কবিতা লিখেছেন; এটি নিয়ে রচিত হয়েছে শত শত গান। মন নিয়ে যেন ভাবনার অন্ত নেই আমাদের। তবে এই মনের অবস্থান আসলে কোথায়?  
এ বিষয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ২৯১১তম পর্বে কথা বলেছেন অধ্যাপক ডা. ফাহমিদা ফেরদৌস। বর্তমানে তিনি জেড. এইচ সিকদার মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মানসিক বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।
এনটিভি : আসলে মন থাকে কোথায়, মাথায় না কি বুকে?
ডা. ফাহমিদা ফেরদৌস : আপনি কি বিশ্বাস করেন আপনার মন রয়েছে? প্রশ্নটা না হয় আমিই করি। আপনার কি মন রয়েছে?
এনটিভি : আমি তো বিশ্বাস করি রয়েছে।
ডা. ফাহমিদা ফেরদৌস : এই মনকে আপনি কখন পেয়েছেন?
এনটিভি : যখন থেকে আমি বুঝতে শিখেছি, আমি জানি। তবে এর আগেও ছিল কি না বিশেষজ্ঞ হিসেবে আপনি বলতে পারবেন।
ডা. ফাহমিদা ফেরদৌস : মস্তিষ্কের যে গঠন শুরু হয়, তখন থেকেই মানসিক বিকাশ শুরু হয়। যদিও মানসিক বিকাশ শুরু হয়, তবে তার শিক্ষা শুরু হয় জন্মের পর থেকে। জন্মের পর থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে আমাদের যে মস্তিষ্ক রয়েছে, তার মধ্যে কিছু আন্তঃ সংযোগ হয়, যাকে আমরা বলি সাইনাপটিক কানেকশন। এই সাইনাপটিক কানেকশনের সঙ্গে আমাদের পরিবেশ, পরিবার, চারপাশের উৎসাহ, উদ্দীপনা, ভালোবাসার সংযোগ হয়। এই শিক্ষাটাই এক সময় আমাদের মনকে তৈরি করে বা মানসিক একটি বিকাশের সঙ্গে যুক্ত হয়।
এনটিভি : তাহলে মনটা তো বুকে নয়, মস্তিষ্কে থাকে?
ডা. ফাহমিদা ফেরদৌস : মস্তিষ্কের বিষয় এটি। মন থাকে মস্তিষ্কে। মানুষ বলতে বুঝি দুটো বিষয়। শারীরিক গঠন ও মানসিক গঠন। এই দুইয়ের সমন্বয় হলো মানুষ।
কেবল শারীরিকভাবে সুস্থ হলেই হবে না, আপনাকে মানসিকভাবে সুস্থ হতে হবে। পশু জাতির সঙ্গে মানব জাতির পার্থক্য হয়েছে কেবল মন দিয়ে। মন হলো নাউন (নাম বাচক)।  এর প্রোনাউন (গুণ বাচক) হলো মানসিক।

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের আট কৌশল



মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করুন। ছবি : সংগৃহীত
জীবনে চলার পথে চাপতো থাকবেই। চাপ একেবারেই দূর করা সম্ভব নয়। তবে এর মাঝেও নিজেকে ভালো রাখার চেষ্টা করতে হবে; জানতে হবে চাপ নিয়ন্ত্রণের কৌশল।
জীবনধারা বিষয়ক ওয়েবসাইট ডেমিক জানিয়েছে চাপ নিয়ন্ত্রণের কিছু কৌশলের কথা। আসুন দেখি সেগুলো।

১. দুশ্চিন্তা কম করুন। এতে সমস্যার সমাধান হবে না।

২. ক্ষমা করতে শিখুন; সবাই তো আর আপনার মতো হবে না।

৩. পছন্দের কাজগুলো করুন; গান শুনুন, বই পড়ুন বা টিভি দেখুন।

৪. যেই বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তা করছেন, সেটি আপনার জন্য কতটুকু প্রযোজনীয় একবার ভাবুন।

৫.  লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। সম্পর্কে বা ক্যারিয়ারে কী অর্জন করতে চান সেগুলোর একটি তালিকা করুন। প্রথমে ছোট ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।  ছোট ছোট লক্ষ্য পূরণের মধ্য দিয়েই বড় লক্ষ্য পূরণ করতে পারবেন।

৬. নিজের কাজকে বাস্তবতার আলোকে বিচার করুন।

৭. প্রতিদিন ব্যায়াম করুন। ব্যায়াম মানসিক চাপ কমানোর হরমোনকে ঝড়াতে সাহায্য করবে।

৮. টাকা জমানোর চেষ্টা করুন; আয়ের অন্তত ১০ ভাগ টাকা জমান।

কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে করণীয়


বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য ২০১৭ – এর  প্রতিপাদ্য ‘কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য’।
এনটিভি : কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ন্ত্রণ কীভাবে করা সম্ভব?
অধ্যাপক মো. আজিজুল ইসলাম : কর্মক্ষেত্রকে স্বাস্থ্যকর করতে হবে। কর্মচারীকে সীদ্ধান্ত নেয়ার সময় আপনি যদি যোগ দেওয়ান সামান্য ভাবেও, দেখা যায় কর্মদক্ষতা অনেক বেড়ে গেছে। তার মনকে যদি বোঝেন, তাকে উৎসাহ দেন, ‘খুব ভালো হয়েছে’ বা ‘আরে তুমিতো খুব সুন্দর করেছো’, তাহলে সে উৎসাহ পায়।
এনটিভি :  বিভিন্ন উন্নত দেশে কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ ভালো রাখার জন্য কাউন্সেলর নিয়োগ দেওয়া হয়। আমার মনে হয় বিষয় খুব ভালো। আপনাদের মতামত কী?
সেলিনা ফাতেমা বিনতে শহিদ : ইন্ড্রাসট্রিয়াল সাইকোলজিস্ট এই কাজ করেন। আসলে বাইরের দেশে তো স্কুল সাইকোলজিস্ট, ইন্ড্রাস্ট্রিয়াল সাইকোলজিস্ট, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট রয়েছেন। আমি একটি কথা বলতে চাই, আসলে আমাদের কারণের ভেতর কিন্তু সমাধান নিহিত রয়েছে। পরিবেশ যদি ভালো না হয়, তাহলে সমস্যা হয়। পরিবেশ আমাদের ঠিক করতে হবে। পাশাপাশি যারা নতুন কর্মচারী ঢুকেছেন বা কর্মকর্তা ঢুকেছেন অনেক সময় দক্ষতার অভাবে বুঝে উঠতে পারেন না যে কীভাবে কাজটা করবেন। সেই জায়গায় যদি দক্ষতা তৈরির জন্য কিছু প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন, পাশাপাশি সামাজিকি দক্ষতার প্রশিক্ষণ করেন, অ্যাসারটিভনেস প্রশিক্ষণ দেন তাহলে ভালো। এই জায়গার জন্যও কিন্তু অনেকে পিছিয়ে রয়েছেন। ওই কথাগুলোকে আমি কীভাবে ইতিবাচকভাবে নিতে পারব বা ইতিবাচকভাবে না নিলেও কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা যাবে, সেটা শিখতে হবে। এরপর মানসিক চাপ ব্যবস্থাপনা সেটি করতে হবে। মানসিক চাপ থাকবেই। কর্ম মানেই, কখনো কখনো বেশি চাপ, কখনো কখনো কম চাপ। সে সময় আমি কীভাবে ব্যবস্থাপনা করবো সেটা শিখতে হবে। মানসিক চাপ একটি সময় ইতিবাচকও।
অধ্যাপক মো. আজিজুল ইসলাম : মানসিক চাপ একজন মানুষকে বার্ন আউট করতে পারে। খুব বেশি হলে সমস্ত কর্মস্পৃহাকে নষ্ট করতে পারে, যদি সেটি খুব বেশি হয়ে যায়।
মাঝামাঝি মাত্রার মানসিক চাপ মানুষের কাজের জন্য ভালো। তবে যদি মাত্রাতিরিক্ত চলে যায় একটি মানুষকে পুরোপুরিভাবে সমন্বয়হীন করে দেয়।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলতে চাই, সোশ্যাল স্টিগমা বা এই যে কুসংস্কার এটি ক্ষতিকর। আমার যদি হার্টের রোগ হয় আমি সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলি। আমার মানসিক রোগ হলে কিন্তু আমি সহকর্মীর সঙ্গে কথা বলি না। যার জন্য রোগের ব্যপ্তি আরো বেড়ে যায়।
কর্মক্ষেত্রে অনেকে যে দেরি করে আসেন বা অনুপুস্থিত, এর অধিকাংশ কারণ কিন্তু মানসিক। কিন্তু আমরা যখন কারণ জিজ্ঞেস করি, বলি যে শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলাম। কেউ কখনো বলবে না যে আমার মনটা খারাপ ছিল। আমার আসতে ইচ্ছে করছিল না। তাই কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে উচিত যে মানুষ যেন ভ্যান্টিলেট করতে পারে সেই ব্যবস্থা করা। তার এই সমস্যা্র কথা যেন বলতে পারে। আলোচনা করতে পারে। আলোচনা করলে কিন্তু অন্য লাভও রয়েছে। আমার ভেতরে একটি অসুবিধা থাকতে পারে সেটি থেকেও কিন্তু আমি মুক্ত হতে পারি। সেই জন্য যারা কর্তৃপক্ষ তাদের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। আর এটা কিন্তু তার জন্য্ই ভালো। তার উন্নয়নের জন্য ভালো। তার কারখানার উন্নতির জন্য ভালো, লোকদের মনোবলের জন্য ভালো। তার লোকদের সুস্বাস্থ্যের জন্য ভালো। তার সুস্বাস্থ্যের জন্য ভালো। কারণ,তার লোকদের উন্নয়নের ওপর তার স্বাস্থ্যও নির্ভর করে।

বেশি বুদ্ধিমান লোকেরা কেন সুখী হতে পারে না?



অতিরিক্ত ভাবনা বেশি বুদ্ধিমান লোকেদের সুখী হতে বাধা দেয়। ছবি : সংগৃহীত
জীবনের চড়াই-উতরাই পেরোতে বুদ্ধিমত্তা, কৌশল বেশ জরুরি। বুদ্ধিমত্তা আপনাকে উন্নতির দিকে নিয়ে যাবে। তবে জানেন কি, বেশি বা অতিরিক্ত বুদ্ধিমত্তা অনেক সময় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে?
বিশেষজ্ঞরা বলেন, অতিরিক্ত বুদ্ধিমান লোক অনেক সময় সুখী হতে পারে না। কারণ, তারা সবকিছু নিয়ে একটু বেশিই ভাবে, বিশ্লেষণ করে। এই অতিরিক্ত বিশ্লেষণ তাদের হতাশ করে তোলে। এতে অসুখী হয়ে পড়ে তারা।
বেশি বুদ্ধিমান লোকদের সুখী না হওয়ার কিছু কারণের কথা জানিয়েছে ট্রুথ থিওরি ডটকম।
১. বুদ্ধিমান লোকেরা সাধারণত অর্জন, সম্পর্ক কোনো কিছুতেই সন্তুষ্ট হতে পারে না। তাই সুখী হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে তাদের।
২. বুদ্ধিমান লোকেরা নিজেদের প্রতি বেশ কঠোর থাকে। তারা অতীতে বারবার ফিরে যায়। তাদের ভুল, নেতিবাচক আবেগগুলো নিয়ে বেশি ভাবতে থাকে।
৩. বাস্তবতা তাদের জন্য যথেষ্ট নয়। বড় কিছু পেয়েও তারা সাধারণত ক্ষান্ত হয় না। ধরন, অর্থ, উদ্দেশ্য খুঁজতে থাকে বারবার।
৪. অধিকাংশ বুদ্ধিমান লোক একা হয়ে পড়ে। কারণ, তাদের মনে হয়, কেউ তাদের মানসিকতাকে বুঝতে পারছে না।
৫. বেশি বুদ্ধিমান লোকেরা বিভিন্ন মানসিক সমস্যায় ভোগে। গবেষণায় বলা হয়, তাদের ক্ষেত্রে সামাজিক উদ্বেগ, বাইপোলার মুড ডিজঅর্ডার ইত্যাদি সমস্যা হতে দেখা যায়।

সুখী জীবনের জন্য ১১ পরামর্শ


কিছু বিষয় মেনে চললে জীবন সহজ হয়। ছবি : জাহাঙ্গীর সুর
সুখী হতে কে না চায়? কিন্তু সুখ কি আর সহজে ধরা দেয়? তবে জীবনে কিছু বিষয় মেনে চললে কিন্তু চলার পথটা অনেক সহজ হয়। কঠিন রুক্ষতার মাঝেও জীবন প্রাণ ফিরে পায়।
জীবনকে সুন্দর করে তোলার কিছু পরামর্শ জানিয়েছে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বিউটিফুল কোটস।
১. প্রতিদিন ১০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটুন এবং হাঁটার সময় হাসুন। এটি বিষণ্ণতা কমাতে কাজে দেবে।
২. প্রতিদিন অন্তত ১০ মিনিট চুপচাপ কোনো নিরিবিলি জায়গায় বসুন।
৩. বেশি করে শাকসবজি খান এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।
৪. প্রতিদিন অন্তত তিনজন মানুষের মুখে হাসি ফুটানোর চেষ্টা করুন।
৫. অযথা আলোচনা বা পরনিন্দায় সময় ও শক্তি নষ্ট না করে ইতিবাচক কোনো কাজ করুন।
৬.  জীবন খুব ছোট, ঘৃণা করে সময় নষ্ট করবেন না। ক্ষমা করতে শিখুন।
৭.  জীবনকে খুব জটিল করে ভাববেন না। সহজ করার চেষ্টা করুন।
৮. অতীতকে সব সময় আঁকড়ে ধরে থাকবেন না। এটি বর্তমানকে নষ্ট করবে।
৯. অন্যের জীবনের সঙ্গে নিজের জীবনকে তুলনা না করাই ভালো। কারণ, আপনার পথ তো আপনারই।
১০. আপনার সম্পর্কে অন্য কেউ সব সময় কী ভাবছে, সেটি ভাবা বন্ধ করুন।
১১. মনে রাখুন, জীবনে ভালো অথবা খারাপ সময়, যাই আসুক না কেন, এটি পরিবর্তনশীল।

ঘুমের সমস্যা কমানোর উপায়



ঘুম না আসার সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। ছবি : সংগৃহীত
কম বয়সের ছেলেমেয়ে থেকে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা মেদবহুল বা রোগা যেকোনো মানুষই নিদ্রাহীনতা বা ইনসমনিয়ার শিকার হতে পারে। বর্তমানে নিদ্রাহীনতায় আক্রান্ত হচ্ছে অনেক মানুষ। একজন সুস্থ মানুষের প্রায় ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। আমরা সারা দিন যা শিখি, পড়ি, লিখি তা সবই ‘শর্ট টার্ম মেমরি’। রাতের ঘুমের সময় সবই সংরক্ষিত হয়। এই বিষয়টিকে ‘লং টার্ম মেমরি’ বলে। এই জন্য ঘুম প্রয়োজন।

কী কারণে নিদ্রাহীনতা হয়
অনেক কারণেই নিদ্রাহীনতা হতে পারে,তার মাঝে রয়েছে শারীরিক অসুস্থতা কিংবা মানসিক অসুস্থতা। যেমন : রাতে জ্বর আসা, কাশি, প্রদাহ, ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট, থাইরয়েডের সমস্যা ইত্যাদি কারণে নিদ্রাহীনতা হয়। মানসিক অবসাদে নিদ্রাহীনতা হতে পারে। যেমন, কোনো ঘনিষ্ঠজনের মৃত্যু, প্রিয়জনের বিশ্বাসঘাতকতা ও বিচ্ছেদ, সামাজিক অসম্মান, মামলায় পরাজয়, আইন বা পুলিশের নিগ্রহ, কর্মজীবনে ধাক্কা, চাকরি চলে যাওয়া, ব্যবসায় লোকসান ইত্যাদি।

নিদ্রাহীনতায় ঘুমের ওষুধ 
ঘুম না এলে একটা ঘুমের ওষুধ বা সিডেটিভ খাওয়ার অভ্যাস আমাদের অনেকের রয়েছে। কিন্তু তা ঠিক নয়? বাড়ির আর সবাই যখন ঘুমে অচেতন, চারদিক নিঃশব্দ, একাকী সেই সময়ে জীবনের সব নৈরাশ্য, আশা ভঙ্গতা সামনে এসে দাঁড়ায়। আর তা থেকে মুক্তি পেতে ঘুমের ওষুধ বেছে নেয় অনেকে। ঘুমের ওষুধ খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। ওষুধের মাত্রা ও প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সাধারণ মানুষ জ্ঞাত নয়। তাই নিজের মনমতো ওষুধ গ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। শারীরিক না মানসিক অসুস্থতা কোন কারণে অনিদ্রা হচ্ছে তা নির্ণয় করে ডাক্তারই আপনাকে প্রয়োজনে ওষুধ দেবেন।

ওষুধ ছাড়া নিদ্রাহীনতা এড়ানোর উপায়

ওষুধ ছাড়াও নিদ্রাহীনতা এড়ানো সম্ভব। যেমন :

* দিবানিদ্রা ত্যাগ করুন।

* বিকেলে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা হাঁটুন।

* সন্ধ্যার পরে চা,কফি খাবেন না।

* বিছানায় যাওয়ার বেশ কিছু আগে রাতের খাবার খান।

* ঘুমাতে যাওয়ার আগে হালকা গরম পানিতে শরীর ধুতে পারেন।

* শোবার ঘর প্রয়োজন মতো ঠান্ডা রাখুন।

* বিছানায় শুয়ে টিভি দেখবেন না।

* হালকা মিউজিক শুনতে পারেন।

* ঘুমাতে যাওয়ার আগে দুধ খান।

* সবচেয়ে একঘেয়ে একটি বই পড়তে শুরু করুন।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপিকা, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ।

প্রতিদিন কতটুকু পানি পান করবেন?



সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। ছবি : সংগৃহীত
প্রায়ই এ রকম পরামর্শ শুনি, প্রচুর পানি পান করুন। প্রচুর মানে আসলে কত?  ইচ্ছামতো,  যত খুশি তত?  না,  মোটেও তা নয়। সব অতিরিক্তের মতো অতিরিক্ত পানিও সমস্যা।
অতিরিক্ত পানি পান করলে পলিইউরিয়ার মতো কিছু বিব্রতকর সমস্যা হতে পারে। পলিইউরিয়া মানে ঘন ঘন প্রস্রাব। ঘন ঘন প্রস্রাবের কারণে কারো কারো রাতের ঘুম পর্যন্ত হয় না ঠিকভাবে। এ ছাড়া রক্তে পানি ও লবণের অনুপাতে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কতটুকু পানি পান করবেন প্রতিদিন?
দুই থেকে সর্বোচ্চ আড়াই লিটার পানি পান করবেন প্রতিদিন। একসময় ভাবা হতো বেশি বেশি পানি পান করলে ইউরিনের ইনফেকশন হয় না। এই কথাও সত্য নয়। ইউরিন ইনফেকশন প্রতিরোধের জন্য আঠারোশ মিলিলিটার থেকে দুই লিটার পানিই যথেষ্ট। অতিরিক্ত পানি কোনো কাজে আসবে না।
যাঁরা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের পানির পরিমাণ নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। পরিমাণের বেশি পানি পান করলে সেটা শরীরে জমে বিপত্তি বাঁধাতে পারে।
লেখক : রেসিডেন্ট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়।

শিশুর মানসিক বিকাশে পরামর্শ


একটি শিশুকে সুস্থভাবে গড়ে তুলতে মানসিক বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দর মানসিক বিকাশের জন্য কী করণীয়, এ বিষয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ২৯৫১তম পর্বে কথা বলেছেন অধ্যাপক সৈয়দ খায়রুল আলম।
বর্তমানে তিনি আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজে পেডিয়াট্রিক বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।
প্রশ্ন : শিশুর মানসিক বিকাশে পরামর্শ কী?
উত্তর : শিশুর মানসিক বিকাশে তাকে সময় দিতে হবে। বাচ্চার সঙ্গে মিশতে হবে, কথা বলতে হবে। আসলে মানসিক বিকাশের জন্য উদ্দীপকের প্রয়োজন। শিশুকে রং চেনাতে হলে তো নানা রকম রং সামনে দিতে হবে। আর সেটা ইউটিউব দেখিয়ে নয়। ইউটিউব থেকে হয়তো ছড়া শিখছে, রং শিখছে। তবে মানুষের সঙ্গে ঠিকমতো যোগাযোগ করতে পারছে না। তাই সেগুলো ঠিক নয়। অন্যের সঙ্গে হয়তো যোগাযোগ করতে পারছে না। তাই তার সঙ্গে স্বাভাবিক কথা বলতে হবে। স্বাভাবিকভাবে কথা বলে তার কথা বলার অভ্যাস করতে হবে। এভাবে তার মানসিক বিকাশে সাহায্য করতে হবে।

ফুসফুসের ক্যানসার বাড়ছে কেন?


ফুসফুসের ক্যানসার বেশ প্রচলিত। ফুসফুসের ক্যানসার কেন বেশি হয়, এ বিষয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ২৯৫০তম পর্বে কথা বলেছেন ডা. ফেরদৌস শাহরিয়ার সাঈদ।
বর্তমানে তিনি ইউনাইটেড হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের পরামর্শক হিসেবে কর্মরত।
প্রশ্ন : ফুসফুসের ক্যানসার বাড়ছে কেন?
উত্তর : ফুসফুসের ক্যানসার শিল্পায়ন, আধুনিকীকরণের সঙ্গে জড়িত। আধুনিকতার সঙ্গে কিছু কিছু জিনিস এসেছে। যেমন : ধূমপান। এটি একটি বড় জিনিস। বায়ুদূষণ হচ্ছে অনেক বেশি, আগের তুলনায়। আমরা চলাফেরা কম করছি। এতে ফুসফুসের কার্যক্রম প্রভাবিত হয়। এগুলো আমাদের আধুনিকতার সঙ্গে জড়িত। এ ছাড়া কিছু গ্যাস রয়েছে। বাসার মধ্যে রেডন গ্যাস বলে একটি জিনিস রয়েছে, এর কারণে হতে পারে। সেটা আপনি এড়িয়ে যেতে পারবেন না। এরপর কিছু কেমিক্যাল রয়েছে। সেগুলো বিভিন্নভাবে আমাদের প্রভাবিত করে। আধুনিক হচ্ছি আমরা। এর সঙ্গে এগুলো আসছে। পুরোনো আমলে কিন্তু অনেক কিছু ছিল না। আমরা প্রাকৃতিকভাবে ছিলাম। ফুসফুসের ক্যানসার কম ছিল। আমাদের মতো দেশে এখনো সচেতনতাটা অত ভালো নয়। ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্রে সচেতনতার ধারণা পাওয়াতে কিছু কিছু বদ অভ্যাস, তারা আগেই ছেড়ে দিয়েছে। সেসব দেশে পুরুষদের ফুসফুসের ক্যানসার ৯০ দশকের পর কমা আরম্ভ করেছে। নারীদেরও ইদানীং কমা আরম্ভ হয়েছে।
আর আরেকটি হলো স্ক্রিনিং। ফুসফুসের ক্যানসারের জন্য আগে কোনো স্ক্রিনিং ছিল না। গত কয়েক বছরে একটি স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম আসছে। এতে আগেভাগেই রোগ ধরা পড়ছে।

প্রতিদিন ১৫ মিনিট হাঁটলে শরীরে যা হয়


Image result for morning walk images

হাঁটা শরীরের জন্য উপকারী- এ কথা কমবেশি সবারই জানা। তবে ব্যস্ততার কারণে অনেকেই হাঁটার সুযোগ পান না। আর কায়িকশ্রম না করার কারণে বিভিন্ন ধরনের রোগ বাসা বাঁধে শরীরে। তাই অন্তত কিছুটা সময় হলেও হাঁটুন। প্রতিদিন কেবল ১৫ মিনিট হাঁটলে শরীরের বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধ হবে।
প্রতিদিন কেবল ১৫ মিনিট হাঁটলে শরীরে যেসব উপকার হয় সেগুলোর কথা জানিয়েছে জীবনধারা বিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই।
১. স্বাস্থ্যকর গাঁট
হাঁটা হাড় ও পেশির শক্তি বাড়ায়। প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ মিনিট হাঁটা হাড়কে ভালো রাখে। বিশেষ করে পায়ের স্বাস্থ্য ভালো করে।
২. মন ভালো হয়
হাঁটা এনড্রফিনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। এনড্রোফিন মস্তিষ্কের এক ধরনের রাসায়নিক উপাদান। এটি মেজাজকে ভালো রাখতে সাহায্য করে।
৩. উচ্চ রক্তচাপ কমায়
আপনি যদি উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভোগেন, তাহলে হাঁটার মতো ভালো ব্যায়াম আর হয় না। কেবল  ১৫ মিনিটের হাঁটা রক্তের চাপ কমাতে সাহায্য করে।
৪. ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে
হাঁটা শরীরে সুগারের মাত্রাকে ঠিকঠাক রাখতে সাহায্য করে। বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়, নিয়মিত ১৫ মিনিট হাঁটা ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে।
৫. হৃদরোগ কমায়
হাঁটা রক্তের বাজে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। শরীরের রক্তচাপের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এতে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।
৬. ওজন কমায়
প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট হাঁটা শরীরের ক্যালোরি ঝড়াতে সাহায্য করে। এতে ওজন কমে। তাই ওজন কমাতে চাইলে অবশ্যই হাঁটুন।

কিডনি ভালো রাখতে হাঁটবেন কতটুকু?

কিডনি ভালো রাখতে হাঁটার গুরুত্ব অনেক। নিয়মিত হাঁটলে কিডনিকে অনেকটাই সুস্থ রাখা যায়। এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ২৬৭৩তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. এম এ সামাদ। বর্তমানে তিনি ল্যাবএইড হাসপাতালের কিডনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে কর্মরত এবং কিডনি অ্যাওয়ারনেস মনিটরিং অ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটির (ক্যাম্পস) প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োজিত।
প্রশ্ন : কিডনিকে ভালো রাখার জন্য কতটুকু কায়িক পরিশ্রম করতে হবে?
উত্তর : লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি হিসাব দিয়ে বলি, ওখানে তারা ৩০ বছর সাধারণ মানুষের ওপর গবেষণা করে দেখেছে যে প্রতিদিন যারা ১৫ মিনিট করে জোড়ে হাঁটেন, এদের গড় আয়ু বেড়ে যায় তিন বছর। পরবর্তী ১৫ মিনিটের জন্য গড় আয়ু বাড়ে দুই বছর করে। এভাবে ৯০ মিনিট পর্যন্ত কেউ যদি জোড়ে হাঁটেন, গড় আয়ু বেড়ে যেতে পারে ১৩ বছর। তাহলে কায়িক পরিশ্রমের গুরুত্ব কত বেশি, এখানেই উত্তর পাওয়া যায়। আমাদের সুস্থ থাকার জন্য কম পক্ষে ৩০ মিনিট এবং সপ্তাহে পাঁচদিন অবশ্যই হাঁটা উচিত। সেটার গতি যাতে বেশি হয়, শরীর থেকে যাতে ঘাম বের হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

তলপেটের মেদ ঝরাবেন কীভাবে



তলপেটের মেদ নিয়ে অনেকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন।
ওপরের পেটের মেদ কমে গেলেও তলপেটের মেদ কমতে চায় না অনেকের। আর এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়। তবে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম তলপেটের মেদ কমাতে অনেকটাই সাহায্য করে। তলপেটের মেদ কমানোর কিছু উপায় জানিয়েছে ব্রাইট সাইট।
১. প্রথমে চিৎ হয়ে শোন। দুই পা একত্রে করে ওপরের দিকে ওঠান, আবার নামান। এভাবে ১৫ বার করুন। ১৫ বারে এক সেট। এভাবে তিন সেট করুন।
২. চিৎ হয়ে শোন। দুই পা সাইকেল চালানোর মতো করে ঘুরান। এভাবে ১৫ বার করুন। এই ক্ষেত্রেও ১৫ বারে এক সেট। এভাবে তিন সেট করুন।
৩. চিৎ হয়ে শোন। এক পা ওপরের দিকে তুলুন। সেই পা নামিয়ে আবার আরেকটি পা ওপরের দিকে তুলুন। ব্যায়ামটি ১৫ বার করুন। এখানেও ১৫ বারে এক সেট। এভাবে তিন সেট করুন।
৪. চিৎ হয়ে শুয়ে দুই পা ৪৫ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে তুলে ৩০ সেকেন্ড রাখুন। এভাবে দুবার করুন।

তলপেটের মেদ ঝরাতে নিয়মিত হাঁটুন


তলপেটের মেদ কমাতে নিয়মিত হাঁটুন। ছবি : সংগৃহীত
তলপেটের মেদ হলে ভাবনার কথা। তবে ওজন কমলে তলপেটের মেদই আগে ঝরে। শরীর আপেল আকৃতি হোক বা নাশপাতি গড়নই হোক, মেদ যখন ঝরে, ওজন কমার সময় তখন পেটের মেদই খসে যায় প্রথম। তলপেটের মেদ বিপাকীয়ভাবে সক্রিয় এবং ত্বকের নিচের মেদের চেয়ে দ্রুত ঝরে সে মেদ।
তলপেটের মেদ হলো আন্তরযন্ত্রের মেদ, পেটের ভেতরে যন্ত্রগুলোর চারপাশে ঘিরে থাকে এই মেদ। এই মেদ বিপজ্জনক। এই মেদ হারানো সহজ।

কখন মেদ হয়েছে, বলা যাবে? নারীদের ক্ষেত্রে কোমরের বেড় ৩৫ ইঞ্চির বেশি হলে তলপেটের মেদ বলা যাবে। আর পুরুষের কোমরের বেড় ৪০ ইঞ্চির বেশি হলে তলপেটে বেশ মেদ জমেছে বলা যাবে। এমন হলে ওজন কমাতে হবে শরীরের।

তলপেটের মেদ বেশ সক্রিয়। এই মেদ থেকতে উৎসারিত হয় হরমোন এবং প্রদাহ উদ্দীপক বস্তু। এই মেদ ভেঙে দ্রুত তৈরি হয় মেদ অম্ল : রক্তস্রোত গিয়ে পৌঁছায় যকৃতে, পেশিতে। চর্বি ও রক্তের জমাট টুকরো আসে রক্তে : হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এসব রোগের সূচনা হয়।

তলপেটে মেদ ঝরানোর জন্য সুবর্ণ পথ হলো হাঁটা। দ্রুত হাঁটা। হেঁটে হেঁটে ঘামা। তাই তলপেটের মেদ কমাতে নিয়মিত হাঁটুন। হাঁটা মেদ ঝড়াতে বেশ কাজে দেবে।

লেখক : অধ্যাপক ও ডিরেক্টর ল্যাব সার্ভিস, বারডেম।

শিশুর মানসিক বিকাশে পরামর্শ

একটি শিশুকে সুস্থভাবে গড়ে তুলতে মানসিক বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দর মানসিক বিকাশের জন্য কী করণীয়, এ বিষয়ে এনটিভির নিয়মিত আয়োজন স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ২৯৫১তম পর্বে কথা বলেছেন অধ্যাপক সৈয়দ খায়রুল আলম।
বর্তমানে তিনি আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজে পেডিয়াট্রিক বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত।
প্রশ্ন : শিশুর মানসিক বিকাশে পরামর্শ কী?
উত্তর : শিশুর মানসিক বিকাশে তাকে সময় দিতে হবে। বাচ্চার সঙ্গে মিশতে হবে, কথা বলতে হবে। আসলে মানসিক বিকাশের জন্য উদ্দীপকের প্রয়োজন। শিশুকে রং চেনাতে হলে তো নানা রকম রং সামনে দিতে হবে। আর সেটা ইউটিউব দেখিয়ে নয়। ইউটিউব থেকে হয়তো ছড়া শিখছে, রং শিখছে। তবে মানুষের সঙ্গে ঠিকমতো যোগাযোগ করতে পারছে না। তাই সেগুলো ঠিক নয়। অন্যের সঙ্গে হয়তো যোগাযোগ করতে পারছে না। তাই তার সঙ্গে স্বাভাবিক কথা বলতে হবে। স্বাভাবিকভাবে কথা বলে তার কথা বলার অভ্যাস করতে হবে। এভাবে তার মানসিক বিকাশে সাহায্য করতে হবে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিন পরামর্শ


হরেক রকম খাবার খান, তবে বেশি নয়। ছবি : হার্ব
ভারসাম্যপূর্ণ ওজন অনেক রোগবালাই থেকে শরীরকে মুক্ত রাখে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। তবে ওজন ভারসাম্যপূর্ণ রাখতে বা ওজন কমাতে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
ওজন ঠিকঠাক রাখতে কিছু পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট স্টেপ টু হেলথ।
১. হরেক রকম খাবার খান, তবে বেশি নয়
ওজন ঠিকঠাক রাখার একটি গুপ্ত রহস্য হলো অনেক রকম খাবার খাওয়া, তবে বেশি না খাওয়া। অর্থাৎ ভারসাম্য রেখে খাবার খান। হয়তো কোনোদিন একটু মিষ্টি বা গরুর মাংস খেতে ইচ্ছে হলো। একটু খান। তবে সেটি যেন নিয়মিত ও অতিরিক্ত না হয়।
২. চর্বি বাদ দেবেন না
চর্বি দুই রকম। ভালো আর খারাপ। ওজন কমাতে খারাপ চর্বি (যেমন লাল মাংস) অবশ্যই বাদ দিন। তবে স্বাস্থ্যকর চর্বি বাদ দেবেন না। যেমন : জলপাইয়ের তেল, অ্যাভাক্যাডো, বাদাম, তৈলাক্ত মাছ ইত্যাদি।
৩. প্রাণীজ প্রোটিন খাওয়া এড়িয়ে যান
প্রোটিন শরীরের জন্য জরুরি। এটি স্নায়ু পদ্ধতি ও পেশি ভালো রাখতে কাজ করে। তবে এ ক্ষেত্রে প্রাণীজ প্রোটিন এড়িয়ে উদ্ভিজ প্রোটিন খান। উদ্ভিজ প্রোটিনে আঁশ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য পুষ্টিগুণ থাকে। উদ্ভিজ্জ প্রোটিনের মধ্যে রয়েছে ডাল, চিয়া সিড, সূর্যমুখীর বীজ, কাঠবাদাম, ওয়ালনাট, কেসোনাট, ব্রাজিল নাট ইত্যাদি।

ওজন কমাতে গাজর, আপেলের জুস


ওজন কমাতে খেতে পারেন গাজর ও আপেল দিয়ে তৈরি জুস। ছবি : বোল্ডস্কাই
বাড়তি ওজন শরীরে বিভিন্ন রোগব্যাধি তৈরি করে। যেমন : জয়েন্টে ব্যথা, হৃদরোগ, কোলেস্টেরল ইত্যাদি। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ভালো। আর ওজন কমাতে ডায়েটের দিকে খেয়াল করা জরুরি।

ওজন কমাতে খেতে পারেন গাজর ও আপেল দিয়ে তৈরি জুস। নিয়মিত ব্যায়াম, তৈলাক্ত খাবার কম খাওয়া আর সকালে নাশতার আগে এই জুস পান ওজন কমাতে অনেকটাই সাহায্য করবে।

গাজর ও আপেল দিয়ে তৈরি এই জুস অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। এটি বিপাক ভালো করে; দ্রুত ওজন কমায়।

উপাদান
• গাজরের জুস—আধা গ্লাস
• আপেল পাল্প—একটি গ্লাসের দুই ভাগের এক ভাগ
• আদার রস—এক চা চামচ

যেভাবে তৈরি করবেন
• সব উপাদান একত্রে ব্ল্যান্ডারের মধ্যে দিয়ে সামান্য পানি দিন।
• একে ভালোভাবে ব্ল্যান্ড করুন।
• ওজন কমাতে এক মাস প্রতিদিন সকালে নাশতার আগে এই জুস পান করুন।

ডায়েট করতে জরুরি কিছু পরামর্শ


বুঝেশুনে ডায়েট করুন। ছবি : হার্ভার্ড হেলথ পাবলিকেশনস
অনেকেই না জেনে ভুলভাবে ডায়েট (পথ্য) চার্ট করেন। তবে একটু জেনে-বুঝে খেলে অনেক সুন্দরভাবেই স্বাস্থ্য রক্ষা করা যায়।
ডায়েটিং কী? ডায়েটিং মানে আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যগুলো পরিমিত ও সুষমভাবে খাওয়া। সাধারণত ওজন কমানো এবং ওজনকে স্থিরভাবে ধরে রাখার জন্য ডায়েটিং করা হয়। সুস্থ ও স্লিম থাকার জন্য ডায়েটিং করা দরকার। সে ক্ষেত্রে কম শর্করা, কম ক্যালরি, কম ফ্যাটযুক্ত খাবার খেতে হবে। প্রতিদিনের ডায়েট চার্টে সব ধরনের খাদ্য উপাদান, অর্থাৎ ভিটামিন, শর্করা, আমিষ, ফ্যাট, মিনারেল, আঁশ, পানি ইত্যাদি থাকলেই সেটা হবে আদর্শ ডায়েট।
ডায়েটের ক্ষেত্রে কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ
  • প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা জরুরি। সাধারণত নারীদের জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে আট গ্লাস (দুই লিটার), পুরুষদের জন্য ১২ গ্লাস (তিন লিটার) পানি পান করতে হবে। এটি সারা দিনের সব রকমের পানীয়ের হিসাব। তবে যাঁরা ব্যায়াম করেন, তাঁরা আরো বেশি পানি পান করবেন। আর কিডনি রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পানি পানের বিষয়টি নির্ধারণ করবেন।
  • রাতের খাবার ঘুমানোর তিন ঘণ্টা আগে খেতে হবে। রাতে ঘুমানোর সময় ক্ষুধা লাগলে ননি বা ফ্যাট ছাড়া দুধ খেতে পারেন।
  • খাবারে শর্করার পরিবর্তে সবজি ও ফল রাখা দরকার। কারণ, এগুলোতে আছে প্রচুর ভিটামিন, আঁশ।
  • সালাদ বেশি বেশি খেতে হবে। দুপুর ও রাতের খাবারের সঙ্গে অবশ্যই সালাদ থাকবে।
  • মাছ অবশ্যই খেতে হবে। মাংস কম খেয়ে মাছ বেশি খাবেন। লাল মাংস, যেমন—গরুর মাংস এড়িয়ে যাওয়া ভালো।
  • সাদা আটার রুটি না খেয়ে লাল আটার রুটি খাওয়া ভালো। কারণ, লাল আটা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। তেমনি সাদা শর্করা, যেমন—সাদা চালের ভাত বাদ দিয়ে লাল চাল খাওয়া ভালো।
  • কাঁচা ছোলা প্রতিদিন খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। কারণ, এগুলোতে আছে কম ফ্যাট, রয়েছে কোলেস্টেরল কমানোর উপাদান। এ ছাড়া ভিটামিন-বি আছে এগুলোতে। এটি হজমশক্তি বাড়ায়, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়।
  • ঘুমানোর আগে দুধ খাওয়া উচিত, অবশ্যই লো ফ্যাট দুধ।
  • প্রতিদিন টক দই খেতে পারেন। তবে চিনি ছাড়া।
  • নারীদের জন্য ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবার খেতেই হবে, যেমন—দুধ, টক দই ইত্যাদি।
  • ভাত কম খেয়ে সবজি, ফল, সালাদ বেশি খান।
  • প্রতিদিনে অল্প পরিমাণে পাঁচ থেকে ছয়বার খেতে হবে।
  • দু-তিন ঘণ্টা পর পর ২০০-৩০০ ক্যালরি খাওয়া সবচেয়ে ভালো অভ্যাস।
  • ভাজা-পোড়া, বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার এড়িয়ে যাবেন।
  •  প্রাণিজ আমিষ সব সময় না খেয়ে উদ্ভিজ আমিষ বেশি খাবেন। কারণ, উদ্ভিজ আমিষে ফ্যাট কম থাকে।
  •  প্রতিদিন একমুঠো কাঠবাদাম খেতে হবে। এতে ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ে, কোলেস্টেরল কমে।
  • প্রতিবার খাবারে আমিষ খেতে হবে পরিমাণমতো। আমিষ হতে পারে—মাছ, সাদা মাংস (মুরগির মাংস ইত্যাদি), বিনস, বাদাম, ডাল, পনির, দই ইত্যাদি। কারণ, আমিষে শর্করার তুলনায় কম ক্যালরি থাকে। এটি পেট ভরা রাখে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। এটি পেশি গঠনেও সাহায্য করে।
  • বেশি তেল ও মসলাযুক্ত খাবার বাদ দিতে হবে। তবে মসলা ভালো, বিভিন্ন রকম মসলার বিভিন্ন গুণাগুণ আছে। তবে পরিমাণমতো দিয়ে রান্না করতে হবে।
  • ভাজা-ভুনা নয়, সেদ্ধ খাবার বেশি খান। আর রান্না করুন কম আঁচে।
  • খাবারের তালিকায় প্রচুর আঁশসমৃদ্ধ খাবার, যেমন—লাল আটা, শাক, সালাদ, সবজি, ফল রাখুন। কারণ, আঁশ ওজন কমায়, হজমশক্তি বাড়ায় এবং কোলেস্টেরল কমায়। নারীর জন্য ২১-২৫ গ্রাম ও পুরুষদের জন্য ৩০-৩৮ গ্রাম আঁশ খেতে হবে প্রতিদিন।
  • খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ খাবেন না। কারণ, অতিরিক্ত লবণ শরীরে পানি বাড়ায়; ব্লাডপ্রেশার ও ওজন বাড়ায়। যে খাবার রান্না করা হয়, তার মধ্যেই অনেক লবণ থাকে। তাই বাড়তি লবণ খাওয়ার দরকার নেই।
লেখক : প্রধান প্রশিক্ষক ও ইনচার্জ, পারসোনা হেলথ

অফিসে ওজন বাড়ার চার কারণ


টানা ডেস্কে কাজ করা ওজন বাড়ায়। ছবি : বোল্ডস্কাই
বর্তমানে অধিকাংশই ডেস্কের চাকরি করেন। অফিসের ডেস্কে বসেই পার করে দেন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা। কখনো কখনো এর চেয়েও বেশি। তবে জানেন কি, ডেস্কে টানা বসে কাজ করা ওজন বাড়িয়ে দিতে পারে? এ রকম আরো কারণ রয়েছে অফিসে বা ডেস্কে ওজন বাড়ার।
জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাইয়ের স্বাস্থ্য বিভাগে প্রকাশ হয়েছে এ-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন।
. অন্যের সঙ্গী হওয়া
আপনার পেট ভরা রয়েছে, তবুও সহকর্মীকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য তার সঙ্গে খাবার খেলেন। বারবার এভাবে খাওয়া কিন্তু ওজন বাড়িয়ে দেয়।
. খাবারের প্রতি অমনোযোগ
কাজের চাপে হয়তো খাওয়ার দিকে মনোযোগ দিতে পারছেন না। বাসার স্বাস্থ্যকর খাবারের বদলে খেয়ে ফেলছেন বাইরের পিৎজা বা ভাজাপোড়া খাবার। এতেও ওজন বাড়ে।
. টানা বসে কাজ করা
অফিসের ডেস্কে টানা বসে কাজ করলে ওজন বাড়ে। কারণ, এতে ক্যালরি ঝরে না। তাই অফিসে ব্যায়াম করা সম্ভব না হলেও বাসায় এর জন্য কিছুটা সময় রাখুন। সেটা হোক সকালে বা বিকেলে।
আর ব্যায়ামের ক্ষেত্রে সব সময় যে জিমেই যেতে হবে, সেটি নয়। হাঁটুন বা দৌড়ান। এগুলো তো নিজে থেকেই করতে পারেন।
. মানসিক চাপ
কাজের চাপ বা মানসিক চাপ ওজন বাড়ার একটি অন্যতম কারণ। মানসিক চাপের কারণে মস্তিষ্ক থেকে করটিসল হরমোন বের হয়। এতে ক্ষুধা বাড়ে। তাই খাওয়া বেশি হয়। আর বেশি খেলে তো ওজন বাড়বেই।

সকালে খালি পেটে ঘি খেলে কী হয়?


সকালে খালি পেটে ঘি খাওয়া উপকারী। ছবি : বোল্ডস্কাই

একটু ভাবুন তো, সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজেকে ফ্রেশ করার পর প্রথমে কী করেন? সবার ক্ষেত্রে উত্তরটা এক রকম হবে না, এটাই স্বাভাবিক। হয়তো কেউ পানি পান করেন, কেউ নাশতা খান, কেউ আবার এক কাপ কফি পানের ভেতর দিয়ে দিনের শুরু করেন।
তবে জানেন কি, সকালে খালি পেটে ঘি খাওয়া বেশ উপকারী? সকালে উঠে এক চামচ ঘি আর এক গ্লাস গরম পানি খেতে পারেন। এটি আরথ্রাইটিস, চুল পড়া প্রতিরোধসহ বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে। তবে এটি খেলে অন্তত আধা ঘণ্টার মধ্যে অন্য কিছু খাবেন না।

সকালে খালি পেটে ঘি খাওয়ার কিছু উপকারের কথা জানিয়েছে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই।

কোষের কার্যক্রমকে উদ্দীপ্ত করে
সকালে খালি পেটে ঘি খাওয়া কোষের কার্যক্রমকে উদ্দীপ্ত করতে সাহায্য করে। ঘি কোষকে নবজীবন দেয়। এতে কোষ ভালোভাবে কাজ করে।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়
ঘিয়ের মধ্যে কোষকে পুনর্গঠন করার ক্ষমতা রয়েছে। এটি ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং ত্বক ভালো রাখতে সাহায্য করে। ঘি ত্বককে ময়েশ্চার করে, ত্বকের রোগ সোরিয়াসিস কমাতে কাজ করে।

গাঁটে ব্যথা প্রতিরোধ করে
ঘিয়ের মধ্যে রয়েছে প্রাকৃতিক লুব্রিকেন্ট। এটি গাঁটে ব্যথা ও আরথ্রাইটিসের সমস্যা কমাতে কাজ করে। ঘিয়ের মধ্যে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। এটি অস্টিওপরোসিস প্রতিরোধে কাজ করে এবং হাড়কে ভালো রাখে।

মস্তিষ্কের কোষকে সক্রিয় রাখে
সকালে খালি পেটে ঘি খেলে মস্তিষ্কের কোষ অনেক সক্রিয় থাকে। এটি স্মৃতিশক্তি বাড়ায়, জ্ঞানীয় কার্যক্রম ভালো রাখে। এটি ডেমেনসিয়া ও আলঝেইমার রোগ প্রতিরোধে কাজ করে।

ওজন কমায়
বলা হয়, ঘি ওজন বাড়ায়। তবে সকালে খালি পেটে ৫ থেকে ১০ মিলিলিটার ঘি খেলে ওজন কমে। এটি বিপাকের হার বাড়াতে সাহায্য করে।

চুল পড়া প্রতিরোধে
খালি পেটে সকালে ঘি খাওয়া চুলের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে কাজ করে; চুল পড়া প্রতিরোধ করে। ঘি চুল নরম, উজ্জ্বল করতে উপকারী। তবে যেকোনো খাবার নিয়মিত খাওয়ার আগে আপনার শরীরের অবস্থা বুঝে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খান।

দুধের সঙ্গে গুড় খাওয়ার উপকারিতা জানেন?


দুধের সঙ্গে দুধ খাওয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ছবি : বোল্ডস্কাই
দুধ পুষ্টিগুণসম্পন্ন একটি খাবার, এটি তো প্রায় সবারই জানা। পাশাপাশি গুড়েরও রয়েছে নানা গুণ। জানেন কি, দুধের সঙ্গে গুড় মিশিয়ে খেলে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে সাহায্য হয়?
দুধ ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এর মধ্যে গুড় যোগ করা হলে এর স্বাদ তো বাড়েই, পাশাপাশি এটি বিভিন্ন ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধে সাহায্য করে।
দুধের সঙ্গে গুড় মিশিয়ে খাওয়ার কিছু গুণের কথা জানিয়েছে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই।
হজম ভালো করে
হজমের সমস্যা অনেকেরই হয়। অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, জাঙ্ক ফুড ও ভারী খাবার খাওয়া ইত্যাদি হজমের সমস্যা করে।
আপনি হজমের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদিতে ভুগলে গুড় উপকারী খাবার হতে পারে। আর দুধের সঙ্গে গুড় খাওয়া হলে হজমের সমস্যা দ্রুত কমতে সাহায্য হয়।
গাঁটের ব্যথা কমায়
দুধ নিয়মিত পান করা আপনাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। দুধের মধ্যে থাকা ক্যালসিয়াম হাড়কে শক্তিশালী করে এবং গাঁটের ব্যথা কমায়। আর এর সঙ্গে গুড় যোগ হলে আরো ভালো হয়।
রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে
গর্ভাবস্থার একটি বড় সমস্যা হলো রক্তস্বল্পতা। এটি প্রতিরোধে চিকিৎসকরা আয়রন ট্যাবলেট দিয়ে থাকেন। এ সময় দুধের মধ্যে গুড় মিশিয়ে খেলে রক্তস্বল্পতা কমতে সাহায্য হয়।
ত্বকের জন্য ভালো
শীতের সময় ত্বকে বিভিন্ন সমস্যা হয়। এমনকি বিউটি রুটিন পরিবর্তন করার পরও ত্বকের উজ্জ্বলতা অনেক কমে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, শীতে প্রতিদিন দুধের সঙ্গে গুড় খেলে ত্বক ভালো থাকবে এবং ত্বকের শুষ্কতা কমবে।

দুধ-মধু খেলে কী হয়?


দুধ-মধু ঘুমের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। ছবি : বোল্ডস্কাই
কাজের চাপে অনেকে হয়তো শরীরের যত্ন নেওয়ার সময় পান না। তাই আমরা সাধারণত এমন খাবার খুঁজি, যেগুলো খুব কম সময়ে তৈরি করা যায় এবং শরীরেরও উপকার করে। এ রকম একটি খাবার হলো দুধ-মধু।
এক গ্লাস গরম দুধের মধ্যে এক চামচ মধু মিশিয়ে দিলেই ঝটপট তৈরি হয়ে যায় এই খাবার। দুধ-মধুর কিছু গুণের কথা জানিয়েছে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই।
১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
দিনকে শুরু করতে এক গ্লাস দুধ-মধু খাওয়ার কোনো বিকল্প হয় না। মধুর কার্বোহাইড্রেট দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে; পাশাপাশি দুধের মধ্যে থাকা প্রোটিন শক্তি বাড়ায়। এটি সারা দিন আপনাকে কর্মক্ষম রাখবে। এটি শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের জন্যই উপকারী।
২. হজম ভালো করে
দুধ ও মধুর সমন্বয় হজমের সমস্যা ভালো করতে সাহায্য করে। হজম প্রক্রিয়া ভালো থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেটফোলা ভাবকে অনেকটাই দূরে রাখা যায়।
৩. হাড়ের জন্য ভালো
দুধ ক্যালসিয়ামের ভালো উৎস। তবে আমাদের শরীর ক্যালসিয়াম শোষণের জন্য খুব ভালো নয়। মধু, দুধের ক্যালসিয়ামকে শোষণে সাহায্য করে; ক্যালসিয়ামকে হাড়ে পৌঁছে দেয়। এ কারণে দুধ- মধু খুব চমৎকার একটি খাবার।
৪. ঘুমের সমস্যা কমায়
দুধ ও মধু ঘুমের সমস্যা কমাতে উপকারী। এই মিশ্রণ ঘুমের হরমোনকে বাড়াতে সাহায্য করে। তাই ঘুমানোর আগে এক গ্লাস দুধ-মধু খেয়ে নিতে পারেন।
৫. কাশি কমায়
দুধের মধ্যে থাকা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান ও মধু বুকের বাধা কমাতে সাহায্য করে; কাশি কমায়।

জিরাপানি কেন পান করবেন?



জিরাপানি হজমের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। ছবি : বোল্ডস্কাই
মসলা হিসেবে জিরার ব্যবহার হয়ে আসছে বহুকাল আগে থেকেই। জিরার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আয়রন। এসব উপাদান শরীরের বিভিন্ন সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
জিরাপানি তৈরির জন্য কিছু জিরাকে পানি দিয়ে কয়েক মিনিট সেদ্ধ করুন। এরপর পানিটি পান করুন। জিরাপানির কিছু উপকারের কথা জানিয়েছে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই।
হজমের সমস্যা কমায়
জিরাপানি হজমের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। এ ছাড়া বমি বমি ভাব, এসিডিটি কমাতেও জিরাপানি উপকারী। তাই হজমের সমস্যার সমাধানে পান করতে পারেন জিরাপানি।
পানিশূন্যতা রোধে
শরীরে পানি ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য ধরে রাখতে জিরাপানি পান করতে পারেন। এটি পানিশূন্যতা কমাতে কাজ করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
জিরার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, আয়রন। এটি সংক্রমণের ঝুঁকি কমায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে
জিরার মধ্যে রয়েছে উচ্চ পটাশিয়াম। এটি রক্তচাপকে ঠিকঠাক রাখতে সাহায্য করে। তাই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে জিরাপানি পান করতে পারেন।
পেট ফোলা ভাব
ভারী খাবার খাওয়ার পর অনেকেরই পেট ফোলা ভাবের সমস্যা তৈরি হয়। জিরাপানি পেট ফোলা ভাব ও ব্যথা কমাতে কার্যকর।
ফুসফুসের শ্লেষ্মা কমায়
ফুসফুসের শ্লেষ্মা শ্বাসের সমস্যা তৈরি করে। জিরাপানি পান এই সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।

আমলকীর রস কেন খাবেন?



আমলকীর রস ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট কমাতে কাজ করে। ছবি : সংগৃহীত
আমলকীকে পাওয়ার হাউস বা শক্তির বাড়ি বলা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি, আয়রন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। আমলকীর রস নিয়মিত খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। তাই নিয়মিত আমলকী খাওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
আমলকীর রসের কিছু গুণের কথা জানিয়েছে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাইয়ের স্বাস্থ্য বিভাগ।
ঋতুস্রাবের ব্যথা কমায়
আমলকী ভিটামিন ও মিনারেলে ভরপুর একটি ফল। এর রস ঋতুস্রাবের ব্যথা কমাতে কার্যকর। এটি কেবল শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ কমাতে সাহায্য করে না, ঋতুস্রাবকে সহজ করতেও কাজ করে।
অ্যাজমা কমায়
আমলকীর রসের মধ্যে কয়েক ফোঁটা মধু মিশিয়ে খেলে অ্যাজমা অ্যাটাকের আশঙ্কা কমে। এমনকি দিনে দুবেলা আমলকীর রস খাওয়া শ্বাসকষ্টের সমস্যাকে কমাতে সাহায্য করে।
ক্যানসার প্রতিরোধ করে
আমলকীর রসের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি ফ্রি রেডিক্যালসের কমিয়ে ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আমলকীর রস উপকারী। এর মধ্যে রয়েছে ক্রমিয়াম। এটি রক্তের সুগারের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণ করে।
কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়
আমলকীর মধ্যে রয়েছে আঁশ। নিয়মিত আমলকীর রস খাওয়া কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে কাজ করে। তবে অতিরিক্ত আমলকীর রস খাবেন না l

কেন ডিম খাবেন?



ডিমে রয়েছে ভালো চর্বি। ছবি : বোল্ডস্কাই
আজ বিশ্ব ডিম দিবস। ডিম খাওয়ার অনেক ভালো দিক রয়েছে। সারা বিশ্বেই সকালবেলার নাশতায় ডিম খাওয়ার কথা বলা হয়। অনেক নিরামিষভোজীও ডিমকে নন-ভেজিটারিয়ান খাবার হিসেবে মনে করেন না। ডিমের মধ্যে ভরপুর রয়েছে প্রোটিন। আর অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারের তুলনায় এর দামও কম।
ডিম খাওয়ার কিছু উপকারিতার কথা জানিয়েছে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই।
অ্যামাইনো এসিড
ডিম অনেক পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ একটি খাবার। ডিমের মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো এসিড। এ ছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন এ, বি৫, বি১২, বি৬, ডি, ই, কে, ফোলেট, ফসফরাস, সেলিনিয়াম, ক্যালিয়াম ও জিংক। প্রতিটি ডিমের মধ্যে রয়েছে পাঁচ গ্রাম প্রোটিন। তাই বডিবিল্ডার্সরা প্রতিদিন ডিম খান।
কোলিন
কোলিন কোষের মেমব্রেন তৈরিতে সাহায্য করে। বেশিরভাগই খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণ কোলিন রাখে না। ডিমে যেহেতু ভালো পরিমাণ কোলিন রয়েছে, তাই এটি নিয়মিত খাওয়া ভালো।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
ডিমের মধ্যে রয়েছে জিক্সাথিন ও লুটেইন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি চোখের জন্য ভালো। এ ছাড়া এটি ছানি প্রতিরোধে সাহায্য করে।
ভালো চর্বি
ডিমের মধ্যে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড ও ভালো চর্বি। অনেকে ভাবেন, সব চর্বিই খারাপ। তবে কথাটি সঠিক নয়। স্বাস্থ্যকর চর্বিও রয়েছে। এটি শরীরের জন্য ভালো।
প্রতিদিন ডিম খাওয়া ভালো বলে পরামর্শ দেন অনেক বিশেষজ্ঞ। তবে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে প্রতিদিন ডিম খেতে  মানা করা হয় বা ডিমের কুসুম খেতে নিষেধ করা হয়।
ডিম তো খাবেনই, তবে  প্রতিদিন ডিম খাবেন কি না বা কতটুকু পরিমাণ খাবেন, এ বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিন।

হার্ট ভালো রাখতে পাঁচ খাবার



হার্ট ভালো রাখতে স্বাস্থ্যকর খাবার খান। ছবি : বোল্ডস্কাই
হার্ট বা হৃৎপিণ্ড দেহের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। এই অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। হার্ট অ্যাটাক, হার্টে ব্লক হওয়া ইত্যাদি হার্টের বিভিন্ন সমস্যা। তবে নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া হার্ট ভালো রাখতে অনেকটাই সাহায্য করে।
হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে, এমন কিছু খাবারের নাম জানানো হয়েছে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাইয়ের স্বাস্থ্য বিভাগে। আসুন জানি সেগুলো :
১. কমলা
কমলার মধ্যে রয়েছে ভিটামিন সি। এ ছাড়া এর মধ্যে রয়েছে বেটা কেরোটিন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও আঁশ। এটি হার্ট ভালো রাখতে অন্যতম একটি ফল। খাদ্যতালিকায় এই খাবার রাখুন।
২. টমেটো
টমেটোর মধ্যে রয়েছে লাইকোপেন, ভিটামিন সি, আলফা ও বেটা কেরোটিন। এটি হার্টের সুরক্ষায় বেশ কার্যকরী খাবার।
৩. ব্রকলি
হার্ট ভালো রাখতে ব্রকলি একটি অনন্য খাবার। ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, পটাশিয়াম, ফোলেট, ক্যালসিয়াম ও আঁশ রয়েছে এর মধ্যে। হার্ট ভালো রাখতে খাদ্যতালিকায় এই সবজি রাখতে পারেন।
৪. কিডনি বিন
কিডনি বিনের মধ্যে রয়েছে উচ্চ পরিমাণ আঁশ। একে হার্টের জন্য ভালো খাদ্য হিসেবে ধরা হয়। এটি হার্টের স্বাস্থ্যকে ভালো রাখতে চমৎকার খাবার।
৫. ফ্ল্যাক্স সিড
ফ্ল্যাক্স সিডের মধ্যে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, আঁশ ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস। হার্ট ভালো রাখতে খাদ্যতালিকায় এই খাবারও রাখতে পারেন। তবে হার্ট ভালো রাখতে খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়ামও করুন।

ডিমের চেয়ে বেশি প্রোটিন রয়েছে যে চার খাবারে


পনিরে রয়েছে ভরপুর প্রোটিন । ছবি : বোল্ডস্কাই
ডিম ছোট একটি খাবার, তবে প্রোটিনে ভরপুর। এর মধ্যে রয়েছে ছয় গ্রামেরও বেশি প্রোটিন। রয়েছে ভিটামিন, মিনারেল আরো প্রয়োজনীয় উপাদান। তাই ডিমকে সুপারফুডও বলা চলে। আর এটি বিভিন্নভাবে রান্নাও করা যায়।
তবে যারা ডিম খেতে তেমন পছন্দ করেন না তাদের জন্য রয়েছে সুখবর। ডিম ছাড়াও আরো কিছু খাবার থেকে পেতে পারেন এই প্রোটিন।
প্রোটিন সমৃদ্ধ এমন কিছু খাবারের নাম জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাইয়ের স্বাস্থ্য বিভাগ।
১. মটরশুটি
এর মধ্যে রয়েছে প্রোটিন ও অ্যাসেনসিয়াল এমাইনো এসিড। অ্যামাইনো এসিড পেশি গঠনে সাহায্য করে।
২. পনির
পনির, বিশেষ চিডার চিজের মধ্যে রয়েছে প্রোটিন, ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম।
৩. পিনাট বাটার
এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বি; রয়েছে ভালো পরিমাণে প্রোটিন। নিরামিষভোজীদের জন্য এটি চমৎকার খাবার। দুই টেবিল চামচ পিনাট বাটারে আট গ্রাম প্রোটিন রয়েছে।
৪. দুধ
দুধ প্রোটিনে ভরপুর। প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় দুধ রাখা উচিত। তবে যাদের ল্যাকটোজে অসহনীয়তা রয়েছে তারা দুধ এড়িয়ে যাবেন। পাশাপাশি দুধের মধ্যে রয়েছে ক্যালসিয়াম ও ওমেগা তিন ফ্যাটি এসিড।

লিভার ভালো রাখতে পাঁচ খাবার


লিভার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। ছবি : সংগৃহীত
লিভার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ- এ কথা কমবেশি সবারই জানা। লিভারের যেকোনো ধরনের ক্ষতি শরীরের ওপর বেশ বাজে প্রভাব ফেলে। তবে কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো লিভারকে ভালো রাখতে সাহায্য করে।

লিভারের জন্য উপযোগী কিছু খাবারের নাম জানিয়েছে জীবনধারাবিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই।

১. রসুন
রসুনের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এটি শরীরকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং যেসব বিষাক্ত পদার্থ লিভারের ক্ষতি করে, সেগুলোকে বাইরে বের করে দিতে সাহায্য করে।

২. হলুদ
হলুদের মধ্যে রয়েছে কারকিউমিন। এর মধ্যে আরো রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, প্রদাহরোধী উপাদান ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান। হলুদ প্রদাহ রোধ করে এবং লিভারের রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

৩. গাজর
গাজরের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এ ছাড়া এর মধ্যে রয়েছে প্রয়োজনীয় ভিটামিন, মিনারেল ও ডায়াটারি আঁশ। এক গ্লাস গাজরের জুস ফ্যাটি অ্যাসিডকে দূর করতে সাহায্য করে এবং লিভার থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে।

৪. গ্রিন টি
গ্রিন টির মধ্যেও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। এ ছাড়া গ্রিন টির মধ্যে রয়েছে ক্যাটাচিন; রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পলিফেনল। এটি লিভার থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে এবং লিভারকে স্বাস্থ্যকর রাখে।

৫. জলপাইয়ের তেল
জলপাইয়ের মধ্যে রয়েছে ভালো চর্বি। জলপাইয়ের তেল শরীরের বাজে কোলেস্টেরল কমায়; লিভারকে স্বাস্থ্যকর রাখে।

কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে ছয় খাবার


কোষ্ঠকাঠিন্য একটি বিব্রতকর সমস্যা। ছবি : সংগৃহীত
কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা বড়ই বিব্রতকর। নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, আঁশজাতীয় খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পান করা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে কাজে দেয়।
কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে কিছু খাবারের নাম জানিয়েছে স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়েবএমডি।
১. তরমুজ
তরমুজের মধ্যে অনেক আঁশ নেই, তবে এর মধ্যে ৯২ ভাগ পানি রয়েছে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। তরমুজের মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি কোষকে সুরক্ষা দেয়। এ ছাড়া তরমুজে রয়েছে ভিটামিন এ, বি, সি ও লাইকোপেন। এগুলো সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষতি রাখতে কাজ করে।
২. ওটমিল
ওটমিলের মধ্যে রয়েছে আঁশ। ওটস অনেক পানি শোষণ করে। এটি হজমে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি শরীরের বাজে কোলেস্টেরল কমায়। ওটমিল আপনার কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়রনের চাহিদা পূরণে অনেকটাই সাহায্য করে।
৩. কাঠবাদাম
কাঠবাদাম আপনি সালাদ বা ডেজার্টের সঙ্গে খেতে পারেন। এই খাবারটিও কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে অনেকটাই কাজে দেয়।
৪. দই
দই হজম পদ্ধতিকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। এর মধ্যে রয়েছে উপকারী ব্যাকটেরিয়া। দই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে।
৫. পানি
কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে পানি বেশ উপকারী। এ ছাড়া তরল খাবার, যেমন—স্যুপ, ফলের রস ইত্যাদি কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে খেতে পারেন।
৬. পপকর্ন
পপকর্ন সাধারণত আমরা সিনেমা দেখার সময়ই বেশি খাই। এর মধ্যে লবণ ও মাখন না যোগ করা হলে এটি একটি স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস। তবে আপনি হয়তো জানেন না এর মধ্যে অনেক আঁশও রয়েছে।

Comments

Popular posts from this blog

দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার ঝুঁকি

১৫৫ কেজি ওজন কমিয়েছেন আদনান সামি! বিনোদন ডেস্ক

গেমিংয়ের নেশা ‘মানসিক রোগ’